একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর সাথে দেখা করতে তার পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ৬টি মাইক্রোবাসে করে তারা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ফটকে পৌঁছেন।

মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়শা খাতুন, মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়া ও তাহেরা তাছনিম, ছেলের স্ত্রী সাইয়েদা তাহমিদ আক্তার ও তাহমিনা আক্তার, বড় ভাই ডা: মীর নাছিম আলী, ভাইয়ের ছেলে মীর ওসমান বিন নাছিম, ভাইয়ের মেয়ে রায়হানা নাছিমসহ ৪৫ জন সদস্য তার সাথে দেখা করতে কারাগারে যান।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই ছেলের স্ত্রী, ভাই, ভাতিজা ও ভাতিজিসহ ২৫ জনকে মীর কাসেম আলীর সাথে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তাদের সাক্ষাতের জন্য ভেতরে নেয়া হয় বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর বাসা থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে তারা যাত্রা করেন তারা। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় সাক্ষাতের সময় দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল করিম কাশিমপুর কারাগারে যান। সেখানে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

তবে ফাঁসি কার্যকরের সময়-ক্ষণ এখনও নির্ধারণ হয়নি।

ফাঁসি কার্যকরের পদক্ষেপ হিসেবে কারা বিধি অনুযায়ী স্থানীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করণে চিঠি পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই চিঠি পাঠানো হয়েছে মীর কাসেমের গ্রামের বাড়িতে।

কারা সূত্র জানায়, লাল খামে ভরে শনিবার সকাল ১১টায় বিশেষ কারা বার্তা বাহকের মাধ্যমে চিঠি গুলো পাঠানো হয়।

এছাড়াও ফাঁসি কার্যকরের সময় নির্ধারণের জন্যে একটি চিঠি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পেয়ে তিনি ফাঁসির সময় নির্ধারণ করবেন।

কারাগার সূত্র আরও জানায়, শুক্রবার কারাগারে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির ট্রায়াল হয়েছে। এতে জল্লাদ শাহজাহান ও রাজু অংশ নেন। সামিয়ানা টানানো হয়েছে ফাঁসির মঞ্চের উপরে।

শুক্রবার বিকালে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন না জানালে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু করে কারাকর্তৃপক্ষ।

তারই অংশ হিসেবে কারা কর্তৃপক্ষ শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও মীর কাসেম আলীর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংক্রান্ত বার্তাটি অবহিত করে।

জানা গেছে, কাসেম আলীর ফাঁসির প্রধান জল্লাদের দায়িত্ব পালন করবেন জল্লাদ শাহজাহান ভুঁইয়া। তাকে সহায়তা করবেন রাজুও কামালসহ আরও ৪ জল্লাদ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তানভির হাসান রাজুকে কাসিমপুর হাই সিকিউটি কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও সাক্ষাতের জন্যে মীর কাসেম আলীর পরিবারের সদস্যদেরও বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে কারাগারে আসতে বলা হয়েছে।

এমবি