পাকিস্তানের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফল এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে জানা যায়নি। কিন্তু ইমরান জিতলে লাভ না ক্ষতি সে হিসাব কষছে প্রতিবেশী ভারত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল দফায় দফায় রিপোর্ট নিচ্ছেন 'র' এবং আইবির কাছ থেকে। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের লাভ না লোকসান, শুরু হয়ে গেছে সেই মূল্যায়ন।

র-এর সাবেক কর্মকর্তা রানা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত, ইমরান গদিতে বসলে তিনি হবেন পাকসেনার ‘রোবট’। সেটি একদিক থেকে ভারতের জন্য শাপেবর হতে পারে।-আনন্দবাজারপত্রিকা অনলাইনের।

গোয়েন্দাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ইমরানের সরকার কার্যত সেনা নিয়ন্ত্রণাধীন সরকার হবে। গণতন্ত্র থাকবে শুধু নামেই। সে ক্ষেত্রে মূলত নওয়াজ শরিফের পুরনো ভোটব্যাংক পাক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ও সার্বিকভাবে দেশের আর্থিক উন্নয়নের স্বার্থেও অস্থিরতা চাইবে না পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। বরং সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে রাখার দায় থাকবে সেনার ওপরেই।

নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। তার পরে একাধিক বৈঠক হয় দুই নেতার। নওয়াজের মেয়ের বিয়েতেও প্রটোকল ভেঙে গিয়েছিলেন মোদি। কিন্তু ভারতের কোনো কথাই রাখেনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

গোয়েন্দাদের অনেকের মতে, ইমরান ক্ষমতায় এলে সেনার সঙ্গেই সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করতে পারে দিল্লি।

কূটনীতিকদের একটি বড় অংশ যদিও বলছেন, সেনাবাহিনীর শাসন যদি এত ভালোই হয়, তা হলে নির্বাচনের প্রহসন কেন? আদালত থেকে আইএসআই, সবই তো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

২০১৩ সালে যখন সন্ত্রাসবাদ চরমে, তখন পাক ভোটে নামানো হয়েছিল ৭০ হাজার সেনা। আর বুধবারের ভোটে তিন লাখ ৭০ হাজার সেনা!

নির্বাচন কমিশন সেনা অফিসারদের ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। ফলে বুথে ঢুকে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের ছাড়পত্র ছিল তাদের। ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিবার এক মাসেরও বেশি আগে পাকিস্তানে পৌঁছায়। এবার তাদের সেই অনুমতিই দেয়া হয়েছে এক সপ্তাহ আগে।

গোয়েন্দারা বলছেন, ইমরান একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তাকে পিপিপির সঙ্গে সমঝোতা করতে বলতে পারে সামরিক বাহিনী।

ভোট প্রচারে পিপিপি নেতা আসিফ আলি জারদারির দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রচার করেছেন ইমরান। সরকার গড়তে জারদারির সঙ্গে হাত মেলানোটা তাই অস্বস্তিকর।

তবু ইমরান হয়তো তাও মেনে নেবেন বাধ্য হয়ে। নওয়াজের দলকে রুখতে মরিয়া সেনা প্রথমে অবশ্য চাইবে, তেহরিক-এ-ইনসাফের সঙ্গে ছোট ছোট মুসলিম দল আর স্বতন্ত্রদের মিলিয়ে সরকার গঠন করে নিতে! তাতে যদি না হয়, শেষ বিকল্প পিপিপি।

গোয়েন্দারা তাই বলছেন, পুরোপুরি সেনাবাহিনীর শাসন বরং ভালো। কারণ বর্তমান অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভারতের কূটনীতিকদের জন্য জটিলই বটে।

ভারতে কর্মরত পাক হাইকমিশনার সোহেল মেহমুদ বলেছেন, পাক নির্বাচনে ভারত কোনো বিষয় নয়। এবার ভারতও দেখল, এই ভোটে কোনোভাবেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ আসেনি। গোটা বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেই মনে করছে ভারত।

এমআর