বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে-বাইরে তালা ও ময়লাবাহী ট্রাক দিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো বর্তমান সরকার। আমি বের হলাম কিভাবে, কিভাবেই বা রাস্তায় গিয়ে বোমা মারলাম? এখন আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (০৯ মে) রাত সাড়ে ৯টায় গুলশান কার্যালয়ে নব-নির্বাচিত কর আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ র্যাবের কাছে আছে বলেও দাবি করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর কিছু হলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আগামীকাল রোববার সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পূর্ণ হবে। আমরা এখনও তাঁকে পাইনি। সালাহউদ্দিন র্যাবের কাছে আছে।’ তিনি তাঁকে অবিলম্বে তাঁর পরিবারের কাছে অথবা যেখানে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল সেখানে ফেরত দিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।
এ সময় খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারকে সন্ত্রাসী, মিথ্যাবাদী, দুর্নীতিবাজ ও অপদার্থ বলে আখ্যা দেন।
খালেদা জিয়া ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমা চুক্তি বিল পাস হওয়ায় মোদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
খলেদা জিয়া বলেন, আমাদের সরেকার বিরোধী আন্দোলকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। এই পেট্রোল বোমা ও মানুষ মারার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত কোনো সম্পৃক্ত নেই। তারপরও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা কখনো ভারতের দালালি করিনি। ভারতের দালালি করে আওয়ামী লীগ। কংগ্রেস সরকারের দালালি করে কিছু আনতে পারেনি বরং কংগ্রেস সরকার আরও উল্টো নিয়েছে। মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য স্থল সীমা চুক্তি বিল পাস করেছে। এ জন্য আমরা এ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তারা সম্পর্ক করতে চায়। এজন্যই এ বিলটি তাদের লোকসভায় পাস করেছে।
আইনজীবী নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. আহমেদ আজম খান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এড. নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি আলহাজ মো. মাজম আলী খান, সহ-সভাপতি মো. রাশিদুল হাসান, মো. শামছুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর উল্লাহসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ, কেবি





