দেশে ‘গুম-খুন-ত্রাস’ সৃষ্টি করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সকালে দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করার পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশে গুমের মধ্য দিয়ে, খুনের মধ্য দিয়ে, এাস সৃষ্টি করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রেখে তারা চেষ্টা করছে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করর। কিন্তু এই দেশের জনগন গণতন্ত্রকে ভালোবাসে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, বুকের রক্ত দিয়েছে, এই গণতন্ত্রকে তারা ফিরিয়ে আনবেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।'
‘আমরা বলতে চাই, বিএনপি সংগ্রাম করেছে ১/১১‘র অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে, বিএনপি সংগ্রাম করছে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। ইনশাল্লাহ জনগনের স্বতস্ফূর্ত সমর্থনের মধ্য দিয়ে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার করবো এবং আজকের এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের শপথ এটাই যে, গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে কখনো ফিরে যাবো না।'
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। জগদ্দল পাথরের মতো এই সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। অঘোষিত এক দলীয় শাসন ব্যবস্থায় তারা সরকার পরিচালনা করছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যথা সময়েই আপনারা সহায়ক সরকারের রূপরেখা পাবেন।' ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীদের এক মঞ্চে নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী দল’(বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় খালেদা জিয়া এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানের অনুপস্থিত থাকলেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাসহ কয়েক হাজার কর্মী উপস্থিত হন। সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে মির্জা ফখরুল দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুস্পমাল্য অপর্ন করে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।
এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, এজেড্এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, আবদুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, কাজী মাজহারুল আনোয়ার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গসংগঠনের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, কাজী আবুল বাশার, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হেলাল খান, শায়রুল কবির খান, আকরামুল হাসান, আনোয়ার হোসাইন, নুরুল ইসলাম নাসিম, হাফেজ আবদুল মালেক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল প্রবেশপথ পুলিশ সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়। ফলে মিডিয়াসহ নেতা-কর্মীরা উদ্যোগের পেছনের সরু প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ করে।
এমএ





