পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিএনপির ২১শ’ নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জঙ্গিবাদ আড়াল করতে চলমান পুলিশী অভিযানের স্টিম রোলার দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আসলে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা নয়, চলমান অভিযান গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করার জন্য গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রায় সাত হাজারের অধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২১শ’র অধিক বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে।

অথচ মূল জঙ্গিদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি, মাত্র ৮৫ জন সন্দেহভাজনকে জঙ্গি হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রেরিত বার্তায় বলা হয়েছে।’

বিএনপির প্রখ্যাত কোনো নেতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যগুলো আপনাদের অবহিত করেছি। চাপে রাখতে শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবদের বাড়ির সামনে আইনঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে গণ গ্রেফতারের এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঈদের আগে দেশের মানুষকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ভীতি আর আতঙ্কের রাজ্যে।’

বিগত আন্দোলনে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ কারার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘যেখানেই পেট্রোলবোমা ও আগুন সেখানেই আওয়ামীরা। তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই হচ্ছে সন্ত্রাস ও শক্তি প্রয়োগ করা। পাশাপাশি অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটতে আওয়ামী লীগের জুড়ি মেলা ভার।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতার গরিমায় থানা পুলিশকে কব্জায় নিয়ে গায়ের জোরে যে কারো বিরুদ্ধে যে কোনো মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা যায়। তবে তাতে সত্যকে ঢাকা দেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অনাচারকারী ভোটারবিহীন সরকার সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা হরণ করে নিয়েছে।

গণতন্ত্রকে উৎখাত করে গোটা সমাজকেই অধঃপতনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে তারা। এদের অনাচার, পাপ আর অধিকার হরণের বীভৎসতায় সরকার এখন মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করছে।

তাই এদের বিরুদ্ধে খুব শিগগির অপরাজেয় মনোবল নিয়ে দেশের মানুষ এক তীব্র প্রতিরোধ গড়া তোলার প্রস্ততি নিচ্ছে। কারণ এদের বিদায়ের তৃতীয় ঘণ্টা বেজে গেছে।’

এসএম