১৮ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে বেআইনী কার্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ‘বেআইনি কর্মকাণ্ডের’ কারণে নির্বাচন কমিশনকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের দাবিও করেছে দলটি।
নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
কমিশনকে ‘নির্লজ্জ, বেহায়া ও দুষ্টের শিরোমণি’ আখ্যায়িত করে রিপন বলেন, ‘যেহেতু তারা নির্লজ্জ, তাই যদি তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা (বিএনপি) রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে তাদের অভিশংসনের (ইমপিচ) দাবি করছি।’
গত শনিবার থেকে হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে ২ জুলাই ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেসব নাগরিক ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ১৫-১৭ বছর বয়সীদের কোনভাবেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগ নেই। বেআইনী কর্মকান্ডে নিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকার সুযোগ নেই। কারন ইতোমধ্যেই তারা শপথ ভঙ্গের কারন ঘটিয়েছেন।
ওই সময় তিনি আরও বলেন, ২০১৫-১৬ বছরের হালনাগাদে ৭২ লাখ নতুন ভোটারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একসঙ্গে তিন বয়সীদের অর্থাৎ বর্তমানে যাদের বয়স ১৫, ১৬ অথবা ১৭ বছর তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা ভোটারযোগ্য হবেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হবে তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বর্তমানে নয় কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে বলে জানান সচিব।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা নির্বাচন কমিশনের একটি রুটিন কাজ হলেও-এই আজ্ঞাবহ, অযোগ্য ও ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন ভোটার তথ্য হালনাগাদের কাজটি অতীতেও সুষ্ঠুভাবে করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে-২০১৩ সালে সর্বশেষ হালনাগাদে নারী ভোটারের চেয়ে উল্টো পুরুষ ভোটার বেড়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৯ জন বেশী। নারী ভোটারের সংখ্যা কেন কমে যাচ্ছে-এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোন মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে ৯০ সালের পর থেকে ভোটদানে নারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বরাবরই বেশী ছিল। অথচ গত কয়েক বছরে চিত্রটি বদলে যাওয়া, নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনীতিতে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নেতিবাচক প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়।
তাই এধরণের বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনকে বহাল রেখে ভবিষ্যতে কোন স্থানীয় নির্বাচনেও কোন বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশ নেবে কিনা-তার সংশয় থেকেই গেল।
এমএইচ





