কুলাউড়া উপজেলা সদরে কোন্দলের কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ মির্জা আব্বাসের পথরোধ করে।

‘ত্রাণ চোরদের’ পাহারা দিয়ে রাখতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ রোববার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বিএনপি আয়োজিত বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বন্যায় দেশের অর্ধেক ডুবে গেছে। অনেকের বাড়িঘর ও গবাদিপশু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এটা দেখে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। অথচ আরেকটি দলের কষ্ট হয় না। বন্যা হওয়ায় তারা আনন্দিত।

কোটি কোটি টাকার ত্রাণ আসছে। দুর্গত মানুষের হাতে সেই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। ওই দলের নেতা-কর্মীরা সব লুটেপুটে খেয়ে ফেলছেন। যাঁরা ত্রাণ চুরি করেন, তাঁদের পাহারা দিয়ে রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৪০০ বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন মির্জা আব্বাস। দলের নেতা-কর্মীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা আসেননি—এ কথা যাতে কেউ বলতে না পারেন। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

কুলাউড়ায় মির্জা আব্বাসের পথরোধ, পুলিশের লাঠিপেটা
কুলাউড়া উপজেলা সদরে কোন্দলের কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ মির্জা আব্বাসের পথরোধ করে।

জেলা কমিটির সহসভাপতি আবেদ রাজার অনুসারীরা বিছরাকান্দি এলাকা ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সাংসদ এম এম শাহীনের অনুসারীরা আজ রোববার উত্তর কুলাউড়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে পৃথকভাবে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।

বেলা তিনটার দিকে মির্জা আব্বাসের গাড়িবহর উত্তর কুলাউড়ায় পৌঁছায়। এ সময় শাহীনের অনুসারীরা তাঁর পক্ষে স্লোগান দিয়ে মির্জা আব্বাসের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।

পরে মির্জা আব্বাস বিছরাকান্দি এলাকায় অপর পক্ষের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দু-তিনজন বন্যার্ত লোকের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিয়ে দ্রুত জুড়ীর দিকে রওনা দেন। জুড়ী থেকে ফিরে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নে আয়োজিত আরেকটি ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা বলেন, ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপির আবেদ রাজার অনুসারীরা আগে অনুমতি নিয়েছিলেন। অপর পক্ষ অনুমতি নেয়নি। মির্জা আব্বাস পৌঁছানোর পর ওই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত সড়কে জটলার সৃষ্টি করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আদর