আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর সময়ের মতো এখনও একটি চক্রান্তের বুলেট সক্রিয় অবস্থায় আছে। বুলেটটি প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীকে পিছু তাড়া করে ফিরছে। মঞ্চের রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে নেপথ্যে থেকে এই চক্রান্তে কারা জড়িত তা দেশবাসী জানে।’’
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতে প্রায়ই বলতেন, আমাকে একটি বুলেট প্রতিনিয়ত তাড়া করছে। তখনকার সময়ে শান্তির স্বপক্ষের শক্তিরা দুর্বল থাকায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছিলো। এখন শান্তির পক্ষের শক্তি অনেক শক্তিশালী। কিন্তু শান্তির বিপক্ষ শক্তির সেই বুলেটের চক্রান্ত সক্রিয়। পূর্বের মতই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।’’
সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে শান্তির প্রধানতম শত্রু আখ্যায়িত করে
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘‘জনগণের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হটানো সম্ভব নয় জেনে শান্তি বিনষ্টকারী একটি মহল চোরাগোপ্তা হামলার পথ বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশকে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দিতে চায়।’’
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্চনার বিষয়ে এই রাজনীতিক বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল শক্তিসহ অনেকেই শিক্ষক লাঞ্চনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিনিয়তই বলছেন, দেখবো প্রধানমন্ত্রী কি করেন? অথচ তারা একটিবারের জন্যও দায়ি ব্যাক্তির (সেলিম ওসমান) দল জাতীয় পার্টির নেতাদের সমালোচনা করছেন না।’’
বাম রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন. ‘‘বাম রাজনীতি আজ ক্ষীয়মান নদীর ধারার মতো বহমান। কোনো রকমে টিকে আছে। বারবারই ভাঙণের সুর বাজে। তাদের এই অবস্থার কারনেই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’’।
‘‘হেফাজতে ইসলামীর তাণ্ডবের সময়ে কোথায় ছিলো শান্তির স্বপক্ষ দাবিদার প্রগতিশীল শক্তি? সেদিন প্রধানমন্ত্রী বিনা রক্তপাতে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেই দেশ দীর্ঘস্থায়ী প্রলম্বিত চক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলো’’দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।
বঙ্গবন্ধুর জুলিও ক্যুরি পদক প্রাপ্তির ৪৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জুলিও ক্যুরি-বঙ্গবন্ধু সংসদ।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকের প্রস্তাবনাকারী ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য প্রয়াত কমরেড আলী আকসাদকে মরনোত্তর ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়। আলী আকসাদের সহধর্মীনি মোমতাজ আকসাদের হাতে পুরস্কারের পদক, মেডেল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোনায়েম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক।
ইআর/এমই





