সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দেশের জনমতের প্রতিফলন দেখছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা মওদুদ আহমদ বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের মতো পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হলে বিএনপি জোট ও আওয়ামী লীগ জোটের আসন তফাৎ হবে ৭৫ শতাংশ।
আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়া নাগরিক ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মওদুদ এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টি পদে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল একটি সহসম্পাদকসহ চারটি পদে জয়লাভ করেছে।
সভাপতি পদে নীল প্যানেলের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ৫৪ ভোট বেশি পেয়ে আবারও বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা ২,৩৬৯। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাদা প্যানেলের ইউসুফ হোসেন হুমায়ন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা ২,৩১৫।
অন্যদিকে সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ৪৪১ ভোট বেশি পেয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাদা প্যানেলের এস কে মো. মোরসেদ।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বার আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক চেষ্টা করেছে; কিন্তু জিততে পারেনি। এ বছরের নির্বাচন আমাদের জন্য সাংঘাতিক তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ তিনি বলেন, ‘নাম বলবে না, সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেছেন এই নির্বাচনের হাওয়া উল্টাতে এবং জয়লাভ করতে। কিন্তু তারপরও তাঁরা পারেননি।’
মওদুদ বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব না। দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলার অধিকার নেই। এ অবস্থায় দেশকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা অর্থহীন। তাঁর দাবি বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আরও ৭ / ৮ বছর আগেই দেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃত পেত।
মওদুদ আরও বলেন, সরকার সমঝোতায় না আসলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আয়োজক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এএস





