টেলিভিশনের টকশোগুলো সচেতন মানুষদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয় টক শো। বুধবার দিবাগত রাতে এরকমই একটি অনুষ্ঠিত হয়েছে আরটিভিতে। 'গোলটেবিল' নামের নিয়মিত এ টক শোর আজকের বিষয় ছিল 'চলমান রাজনৈতিক সংকট'।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় টক শোতে উপস্থিত ছিলেন সাতজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শামীম আহমেদ পাটোয়ারী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামসুল আলম, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ ও আওয়ামী লীগের এমপি ডা. হাবিব এ মিল্লাত। এখানে তাদের বক্তব্যের মূল বক্তব্যটুকু তুলে ধরা হলো-
শামীম আহমেদ পাটোয়ারী : এই সরকারের এখন দুটি কাজ বাকি- এক. দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়ার জন্য বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা। দুই. গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা।
মাহমুদুর রহমান মান্না : ধারণার ভিত্তিতেই যেকোন কিছু শুরু করতে হয়। এরপর এটিকে প্রত্যায়িত অর্থ্যাৎ প্রমাণিত করতে হয়।
আমাকে সুযোগ দেয়া হলে এই সরকার গত কয়েক মাসে যে ভয়াবহ দুর্নীতি করেছে তার সব প্রমাণ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হবো।
আবু আলম শহীদ খান : দুদক কাগুজে বাঘ, নখ-দন্তহীন বাঘ নয়। কেননা একজন সচিবকে শাহবাগ থানার সামনে থেকে বিনা কারণে ধরে নিয়ে জেলে পুরে দেয় দুদকের এক ইন্সপেক্টর। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে তিনি নির্দোষ। এই যে তার মানহানি হলো তা কী ফেরত দেয়া যাবে।
আহমেদ আজম খানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম উচ্চারণ করেছেন অত্যন্ত ভক্তি-শ্রদ্ধা করে, পূর্ণনাম দিয়ে। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করেছেন অর্ধেক।
শামসুল আলম : বিশ্বব্যাংক সারাবিশ্বে সুদের লেনদেন করছে। এর বিরুদ্ধে তো কেউ কিছু বলেন না। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক নিজেই দুর্নীতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা না পেরে আমাদের মন্ত্রীর উপর দোষ চাপিয়েছে। বিশ্বব্যাংক আমাদেরকে ছেড়ে যায়নি, তারা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে। আইসিটিসহ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে হাজার হাজার কোটি তারা নিয়ে আসছে। আমরা এসব টাকা ব্যবহারের খাত খুঁজে পাচ্ছি না।
আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এর প্রমাণ আপনারা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবেন।
আহমেদ আজম খান : তারেক রহমান কোন দুর্নীতি করেননি। আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক কারণেই এ মামলা প্রত্যাহার করছে না। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে বিদেশি অনুদান এসেছে। জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রেখেই অর্থ দেয় বিদেশি দাতারা।
যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদেরকে সরিয়েই দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করতে হবে। ৫ জানুয়ারির তথাকথিচ নির্বাচনের পর আপনারা কথা বলার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তারেক রহমান সময় হলেই দেশে ফিরবেন। এখন যে সময়টা চলছে এরও ইতিহাস লেখা হবে।
শামা ওবায়েদ : ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কুকুর লাইনে দাঁড়িয়েছিল। আপনারা নির্বাচিত নন। জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যান না করলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণভোট দিতে যেত। আপনারাই পুলিশ দিয়ে সহিংসতা ঘটিয়েছেন। ক্যাডার দিয়ে বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছেন।
ডা. হাবিব এ মিল্লাত : গত নির্বাচনে জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ মেরেছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তখন দেখা যাক কী হয়! দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে সহায়তা করুন।
ঢাকা, ০৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





