আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিলের কারণে দেশের ৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীশূন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল (০২ ডিসেম্বর) রোববার সারা দেশে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ও অবৈধ ঘোষণা করেন।
বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া আসনগুলো হলো- বগুড়া-৭, ঢাকা-১, জামালপুর-৪, শরীয়তপুর-১, মানিকগঞ্জ-২, রংপুর-৫ আসন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে জন্য ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পরে। এর মধ্যে সারা দেশের যাচাই-বাছাই শেষে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁর বিকল্প হিসেবে প্রার্থী ছিলেন- গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন। রোববার (০২ ডিসেম্বর) বাছাইয়ে দু’জনের মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোন্দকার আবু আশফাক এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ ফাহিমা হোসাইন জুবলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে আশফাকের পদত্যাগের নথি নির্বাচন কমিশনে না পৌঁছানোয় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফাহিমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল কবির তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায়। এই আসনে বিএনপি বিকল্প কোনো প্রার্থী দেয়নি।
শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার নাসির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায়। ১৯৮৮ সাল হতে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় বাছাইকালে তাঁর মনোনয়পত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী আবু তাহের। ওই সময় কালে নাসির উদ্দিনের কাছে ৩ হাজার ৮১৫ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।
মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের তিন ইউনিয়ন) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর গরমিল হওয়ায়। এই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান। তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান আলম ফকির এবং জেলা বিএনপির সদস্য মমতাজ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে নথিতে ত্রুটি থাকায়।
এমবি





