একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জীবন ও মৃত্যুর ফায়সালা জমীনে নয়, আসমানে হয়। আল্লাহই সর্বোত্তম হেফাজতকারী। আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী”।

আজ (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে মাবরুর এসব মন্তব্য করেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনানোর পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ছেলে মাবরুর তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যু পরোয়ানাও পড়ে শোনানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই নেতার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর বিকেলে লাল কাপড়ে মোড়া মৃত্যু পরোয়ানার কপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের ছয়জন প্রতিনিধি কারাগারে প্রবেশ করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার দুপুরে তাদের ফাঁসির রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করে।

ফাঁসির রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ফলে বিধি অনুযায়ী তারা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন।

২০১৫ সালের ২৯ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

অপরদিকে, ২০১৫ সালের ১৬ জুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের একই আপিল বেঞ্চ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং একই বছরের ১১ আগস্ট আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ খালাস চেয়ে আপিল করেন।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে এবং ১৭ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করে।

এরআগে, ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর হরতালে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। ওই বছরেরই ১৯ ডিসেম্বর তাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগে ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে তার বিচারকাজ শুরু হয়।

অন্যদিকে, ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যু পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই রাষ্ট্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর রায় কার্যকর করতে শেষ দু’টি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে বিধি মোতাবেক রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করতে পারবেন আসামি ও রাষ্ট্র উভয়পক্ষই।

অন্যদিকে বুধবার আপিল বিভাগের রায় প্রকাশের পর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করবেন।

তিনি আরো বলেন, রায় প্রকাশের দিন থেকে নয়, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর থেকে আমরা ১৫ দিন সময় পাব। তিনি বলেন, যখনই রিভিউ আবেদন দায়ের করা হবে তখনই মৃত্যু পরোয়ানা ও দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

কেবি