ফ্রান্সে ইসলাম ও নবীর কার্টুন নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে গতকাল জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের লাখো নেতাকর্মী ও দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।
মিছিল ও সমাবেশগুলোতে ঢাকা থেকে ফরাসি দূতাবাস সরিয়ে দেওয়া এবং ফরাসী পণ্য বর্জনের আহ্বানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ও মুসলিম বিশ্বকে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হওয়ার আহবান জানানো হয়।

ঢাকার পল্টনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হওয়া সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের সমন্বয়ক ড. মুফতি খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মীরেরসরাই পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল মুমিন নাসিরী, মাওলানা আব্দুল আজিজ হবিগঞ্জী, ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা ইয়ামীন হোসাইন আজমি, বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান, মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বলেন, আমরা শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও নবীপ্রেমে দুর্বল নই। আগামির কর্মসূচি যদি হয়, ওই কর্মসূচিতে আমরা নবীর প্রেমে শাহাদাত বরণ করতে চাই। আমি সরকারকে বলতে চাই, ফ্রান্সের দূতাবাসকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দিন। যেভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছে, ফ্রান্সের সমর্থন নিয়ে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

ড. মুফতি খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, সম্মানিত তাওহিদী জনতা, দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সম্মানিত ভাইয়েরা, ফ্রান্সে বিশ্বনবী মোহাম্মাদ (সা) এর কার্টুন ব্যাঙ্গ করে দেয়ালে দেয়ালে সেঁটে দিয়ে মুসলিম উম্মাহর কলিজায় আগুন জ¦ালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে সারাবিশ্ব ফুসে উঠেছে। বাংলাদেশের তাওহিদী জনতা সারাদেশের জেলায় জেলায় মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ মিছিল করছে। রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকররম থেকে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের উদ্যোগে গণমিছিল শুরু হয়েছে। আমরা গণমিছিল থেকে সুস্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেই দিয়েছেন, কোনো মুসলমান, কোনো ইমানদার প্রিয় নবিজীর জীবন অপেক্ষা নিজের জীবনের মূল্য দিতে জানে না। সরকারকে বলে দিতে চাই, ফ্রান্সের পণ্য সরকারিভাবে বর্জন করতে হবে। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ফ্রান্সকে মাফ চাওয়াতে বাধ্য করা হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্রান্স আল্লাহর রাসূলের শানে বেয়াদবির মাফ না চাইবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাওহিদী জনতা ঘরে ফিরে যাবে না ইনশাআল্লাহ।

সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা)-এর ব্যঙ্গচিত্র কার্টুন প্রকাশ করার প্রতিবাদ না জানিয়ে আরও সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। এ জন্য ফ্রান্সকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ঈমানদার মুসলমানরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করে ওদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।

বক্তারা বলেন, ‘ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী (সা)-এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শন করায় বিশ্বের দুইশ’ কোটি মুসলমান ব্যথিত হয়েছেন। ফ্রান্সের এহেন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী কর্মকাÐ বন্ধ করতে হবে। বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের হৃদয়ের ক্ষত মুছতে হলে ফ্রান্সকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। জাতীয় সংসদে মহানবী (সা)-এর অবমাননার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)- এর অবমাননার নিন্দায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ সরব হয়েছে। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ করছি, পাশ্চাত্যের দাসানুদাস হিসেবে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা জবর দখল করে থাকা ক্ষমতাসীনরা রহস্যজনক নিরবতা পালন করে যাচ্ছে। ওআইসিকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রাখা হয়েছে। তাদেরই পথ অনুসরণ করে আমাদের সরকারও ফ্রান্সের ঘটনায় নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ সারা জাতি আজ সরকারের কাছে নিন্দা জানানোর দাবি জানাচ্ছেন। ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় অনাচার দেখেও কোন মুসলিম দেশ নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। অবিলম্বে ঢাকায় ফরাসী রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানাতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমবি