বুধবার (৬ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বয়কট করেছে। দেশের জনগণ তথাকথিত কমিশনের গণধিকৃত তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে।স্বৈরাচারী সরকার বিরোধীদলের সকল দাবি অগ্রাহ্য করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণতন্ত্র হরণকারী ফ্যাসিস্ট সরকার জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলাটি বাকশালি কায়দায় খারিজ করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের বাইরে রাখার ঘৃণ্য কৌশলের অংশ হিসেবে জালিম বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের দ্রুত সাজা দিচ্ছে। আইন-আদালতের নিয়ম-নীতি ভূলুণ্ঠিত করে গভীর রাত পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুনানি ছাড়াই রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। সরকারের নিষ্ঠুরতার কালো ছায়া জগদ্দল পাথরের ন্যায় জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। সরকারের দমন-পীড়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মজলুমের আর্ত-চিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ইতিহাস সাক্ষী জালিমের ধ্বংস অনিবার্য। জালিমরা সব সময়ই পরাজিত হয় এবং মজলুমরা বিজয়ী হয়।

তিনি বলেন, বিনা ভোটের সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জামায়াতসহ বিরোধীদলের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে বন্দী করে রেখেছে। হামলা-মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের ঘরছাড়া করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মামুনুর রশীদ মামুন, কিশোরগঞ্জ শহর শাখার কর্মপরিষদ সদস্য মুস্তাকিম বিল্লাহ ও দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত মেম্বার মনিরুল ইসলামসহ গত ৪৮ ঘণ্টায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৬ জন নেতা-কর্মীকে বেআইনি ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমি এ সব জুলুম-নির্যাতন এবং বেআইনি গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তি দাবি করছি। পাশাপাশি চলমান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং সংগ্রামী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি