আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই তথ্য জানিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তির জন্য অনুরোধ করেছেন।”
এর আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দণ্ড মওকুফ করার জন্য আবেদন করা হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আইনগত বিষয় খতিয়ে দেখে মতামত দেওয়ার জন্য। আমরা আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির পক্ষে মতামত দিয়েছি।”
“বয়স বিবেচনায়, মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কখন মুক্তি পাবেন এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “মুক্তির বিষয়ে সব কাগজপত্র এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তির ব্যবস্থা করবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলাতেও তার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ০১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়া।
এমবি





