২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বাঁশখালীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এ সরকারের আমলে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। কেবল ভোটারবিহীন এই সরকারের পক্ষেই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক কাজ করা সম্ভব।
তিনি বলেছেন, চলমান ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার সকল দায় নির্বাচন কমিশনের। তারা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর গণমাধ্যমের উপর দোষারুপ করে নিজেদের দায় এড়াতে চাচ্ছে।
গতকাল ও আজ বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মোননীত নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আবুল হোসেনের পক্ষে নাউতারা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেবেল রহমান গাণি এসব কথা বলেন।
ন্যাপ নাউতারা ইউপি আহ্বায়ক মোঃ জলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বক্তব্য রাখেন ন্যাপ মোননীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল হোসেন, ন্যাপ নীলফামারী জেলা সদস্য মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, ডিমলা উপজেলা আহ্বায়ক শাহ্ আজিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোফাক্কারুল ইসলাম পেলাব, নাউতারা ইউপি যুগ্ম আহবায়ক এলাহি বকস, যুব ন্যাপ আহবায়ক মোঃ শাহ্ আলম, সদস্য সচিব নুর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সানু, জিয়াউর রহমান, হামিদুর ইসলাম, সৌদি মতিয়ার রহমান, বালাপাড়া ইউপি যুব ন্যাপ আহ্বায়ক লাজু হোসেন প্রমুখ।
জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হলেও ইসি এর বিরুদ্ধে কার্যকলী কোনো পদক্ষেপ গ্রহনে ব্যর্থ হয়েছে। জনগন প্রত্যাশা করে ইসি‘র শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পরবর্তী ধাপগুলোতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবে অন্যতায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করে অন্যদের ওপর দায়িত্ব দিবে। তিনি পরিবর্তনের লক্ষে নাউতারাবাসীকে বাংলাদেশ ন্যাপ মোননীত প্রার্থীকে গাভী মার্কায় ভোট দেবার আহ্বান জানান।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বাঁশখালীর জনগণ নিজস্ব শক্তিতে সরকারের গণবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। হত্যা করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করা যাবে না, অতিতেও যায়নি।
জনগণের ভোট ছাড়াই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও সরকারের আদর্শ হচ্ছে লুটপাটতন্ত্র। খুন-ধর্ষণ-গুম বেড়েই চলেছে। বাঁশখালির জনগনের মত দেশবাসীকে ইউপি নির্বাচনে ভোট ডাকাতদেরকেও প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে ২০ দল অংশগ্রহণ করে এই সরকারের কুৎসিত-সন্ত্রাসী-গণবিরোধী চেহারা জনসম্মুখে নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে দেশবাসীর সামনে দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে, ভোট ডাকাত কারা? তারা জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যাচ্ছে।
এই সরকারের কৃপায় আমরা দেখেছি- অন্য সময়ে ভোট জালিয়াতি হতো, দিনের বেলায় সিল মারা হতো। আর এখন দেখা যাচ্ছে, আগের রাতেই ভোট হয়ে যাচ্ছে। ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ জলিলুর রহমান বলেছেন, ইউপি নির্বাচনে এতগুলো প্রাণহানি হলো কিন্তু ইসি কোনো পদক্ষেপ নিলো না। দেশবাসী এতে লজ্জিত হলেও ব্যর্থ ইসি তারপরও লজ্জিত হন না। মনে হচ্ছে তারা বোধশক্তিহীন। তিনি অবিলম্বে ইসিকে পদত্যাগ করে একটি ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান।
এমবি





