হাসিনা ভদ্র ব্যবহারও করেন না, ভদ্র ভাষায় কথাও বলতে জানেন না। শুধু ভদ্র ভাষাই নয়, এমন সব অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে সেগুলো আমরা মনে করি, আমাদের সবার জন্য লজ্জার ও অপমানেরবলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
গতরাতেআন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা দলের সাথে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে গতসোমবারপ্রধানমন্ত্রীরদেয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এই অভিযোগ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা ভদ্র ব্যবহারও করেন না, ভদ্র ভাষায় কথাও বলতে জানেন না। শুধু ভদ্র ভাষাই নয়, এমন সব অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে সেগুলো আমরা মনে করি, আমাদের সবার জন্য লজ্জার ও অপমানের। কেন?
জোর জবরদখল করে হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদটা দখল করে আছেন। সেখানে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে সবাই অসম্মানিত বোধ করি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হোক আর হাসিনা হোক, এরা ভালো আচরণ করতে জানে না। এদের মধ্যে কোনো সুন্দর ভাষা নেই। যাদের মুখে ভদ্র ভাষা নেই, তারা মানুষের সাথে কেমন করে ভদ্র সুন্দর আচরণ করবে?
নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সারা দেশের মহিলাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করে বলেন, এই বিশ্ব নারী দিবসেও আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয় না। এখন আমাদের জন্য বড় হল পাওয়া দুষ্কর। কোনো হলও দিতে চায় না, আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি না। এই যে একটা অবরুদ্ধ অবস্থা দেশটাকে করে রেখেছে। গণতন্ত্রহীন অবস্থায় এভাবে দেশ চলতে পারে না।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র না থাকায় প্রতিটি েেত্র অবনতি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় নারীদের ওপর যেসব নির্যাতন হয়েছে, এটা যখন পত্রিকায় আসে, তখন শুধু আমাদের লজ্জিত করে। বিদেশীরা এগুলো নিয়ে নানারকম কটূক্তি করে, সমালোচনা করে এটা মোটেই কোনো ভালো জিনিস নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, আজ সমাজটাকে সরকার খারাপ করে দিয়েছে। প্রতিটি েেত্র দুর্নীতি ও খারাপ কাজ মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষের চিন্তাধারণা নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারে না, সেখানে নকলবাজি করে পাস করানো হয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগ জোর করে পাস করে নেয়।
আওয়ামী লীগ না হলে ভালো মেয়েরা চাকরি পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
নারীদের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানা পদক্ষেপেরকথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তিনিই পুলিশ, আনসার বাহিনীতে নারীদের নিয়োগ করেছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মহিলাদের নিয়োগও তিনিই প্রথম শুরু করেন। এরপর আমরা যখন খমতায় ছিলাম আমরাও করেছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে নারীরা নিজের বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট ও নিজের পেশাস্থল কোথাও নিরাপদ নয়। তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। গ্রামে-গঞ্জে আজকে অহরহ শাসক দলের লোক ও পুলিশ দ্বারা মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছেন।ছোট শিশুরাও খুন হচ্ছে। পুলিশ দ্বারা মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছেনএটা লজ্জাজনক ওঅসম্মানজনক।
পুলিশ সদস্যদের বলব, আপনাদেরও মা-বোন আছে। আপনারা সেটা চিন্তা করে যেন অন্যের মা-বোনদের সম্মান দিয়ে এসব কাজ থেকে বিরত থাকেন। এটা কোনো ভালো কাজ নয়, নোংরা কাজ।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য রাখেন।
এ সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
মহিলা দলের অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসন পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এমবি





