একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে দেখা করেছেন তার স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারের একটি কক্ষে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় কাটান তারা।

কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেলার মো. নাসির আহমেদ জানান, পারিবারিক ও রিভিউর বিষয়ে তারা কথা বলেছেন। দুপুর ১২টার দিকে মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী বেগম সামসুন্নাহার নিজামী, ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন ওরফে নাজিবুর রহমান ও নাঈমুর রহমান, পুত্রবধূ ছালোয়া ও রাইয়ান দেখা করেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা কারা চত্বর ত্যাগ করেন।

মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন বিষয়ে ১৭ মার্চ দুপুরে কারাগারে তার আইনজীবী ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেনসহ তিন আইনজীবী কথা বলেন।

এর আগে ১৫ মার্চ বিকেলে নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ১৫৩ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। দুপুরে ওই রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান নিজামীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৮ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময়ের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল নিজামীর মৃত্যুদণ্ড দেন।

ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন নিজামী। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে আপিল শুনানি। ওইদিনই আদালত রায়ের জন্য ৬ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দেন।

এমবি