বুলু বলেন, দেশে চারিদিকে সঙ্কট। আমদানি হচ্ছে না, ডলারের সঙ্কট। এই সঙ্কটের মধ্যে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) ২০ কিলোমিটার পাতাল রেলের জন্য ৫২ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন। লুটপাটের জন্য এই প্রকল্প আপনারা করেছেন।

৫২ হাজার কোটি টাকার পাতাল রেলে রাষ্ট্রে কি উপকার হবে? এই ৫২ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের মাঝে দিয়ে দেন, এই ৫২ হাজার কোটি টাকার শ্রমিকদের মাঝে দিয়ে দেন, এই ৫২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে মিল-কারখানা করেন। লক্ষ, লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আপনারা সেটা করবেন না। কারণ এটা করলে আপনাদের লুটপাট হবে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন কর্মসূচি হয়।

বরকত উল্লাহ বুলু অভিযোগ করে বলেন, দেশ থেকে গত এক দশকে ১৪ লাখ কোটি টাকা কানাডা, দুবাই, আমেরিকায় পাচার করা হয়েছে। একজন এমপি চার বছরে আমেরিকাতে ১৭টি বাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। মনে হয় যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ তাদের হাতে আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এভাবে কুইক রেন্টাল, রেন্টাল বিদ্যুত প্রকল্পের নামে লাখ লাখ টাকা লুট করে আওয়ামী পরিবারের লোকেরা বিদেশে বিশ্ব ধনীদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন।

বুলুর অভিযোগ, পৃথিবীর কোনো দেশ নেই যে প্রকল্পের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে পারবে না। সরকার সংসদ এজন্য ইনডেমনিটি বিল পাস করিয়েছে। যাতে করে লাখ লাখ টাকার চুরি করতে পারবে আর এই চুরির বিরুদ্ধে কেউ কোনো মামলা বা অভিযোগ না করতে পারে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আন্দোলনে সরকারের পতন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারকে হটিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বেপারীর সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ইসমাইল তালুকদার খোকন, নাদিয়া পাঠান পাপন, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান, মুসা ফরাজী, তোফায়েল হোসেন মৃধা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এমআই