এক ঘন্টা ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেও ভোট দিতে পারেননি ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ না করে বিষয়টি মেনে নেন তিনি।
রাজধানীর লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে চলে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, “টেকনিক্যাল কারণে প্রবলেম হচ্ছে। আমি অনেকক্ষণ থাকায় অন্য ভোটারদের ঢুকতে প্রবলেম হচ্ছে দেখে নিজেই চলে যাচ্ছি। টেকনোলজিতে এমন সমস্যা হয়। গত বার জাতীয় নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছিল। এটা হতেই পারে।”
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “বৈশ্বিক একটা সমস্যা নিয়ে আমরা নির্বাচন করছি। এবারের নির্বাচনে আমরা বড় কোনও সভা করিনি। আমাদের পাঁচটি সভা করার অনুমতি ছিল। মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা সভা করিনি। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিস্থিতি এখনও ওই লেভেলে যায়নি।”
ভোটারদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “করোনার আতঙ্কের মধ্যেই অনেকে কাজ করছেন। সাবধানতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ঠিকমতো সুরক্ষা ম্যানটেইন করলে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।”
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে লেক সার্কার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন এই প্রার্থী। বিভিন্নভাবে চেষ্টার পরও তিনি ভোট দিতে পারেননি। পরে বেলা বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তিনি ভোটকেন্দ্র থেকে চলে যান।
ঢাকা-১০ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করায় ঢাকা-১০ আসনটি গত ২৯ ডিসেম্বর শূন্য ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, শেরেবাংলা ও লালবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন।
তারা হলেন- আওয়ামী লীগের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিএনপির শেখ রবিউল আলম, জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের কাজী মুহাম্মদ আবদুর রহিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান।
এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৫ জন, ভোটকেন্দ্র ১১৭টি ও ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। এ আসনটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশ ও আনসারের ১৪-১৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। থাকবে র্যাবের টিমও।
গতকাল (২০ মার্চ) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতান বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় করোনা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেননা ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত ইভিএমে ভোটদান থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি আছে।
এমবি





