একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে কোন আবেদনই করেননি বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
আজ (শনিবার) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে বিদায়ী সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হুম্মাম।
সরকার উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার দল বিএনপির সুনাম ক্ষুন্ন করতেই প্রাণভিক্ষার নাটক সাজিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হুম্মাম কাদের।
তিনি বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন- এমন তথ্য শুনে তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী অবাক হয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, এটা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে, বিদায়ী সাক্ষাতের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কি বলেছেন জানতে চাইলে হুম্মাম কাদের বলেন, তার বাবা জানিয়েছেন তিনি কখনই প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। এটা একেবারেই মিথ্যা।
হুম্মাম বলেন, ‘বাবা বলেছেন তিনি কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি। তিনি বলেছেন, যে কাগজ বের হয়েছে, এ ধরনের কাগজ আরো কত দেখবে সামনে। তিনি আরো বলেছেন, নির্বাচনে হারাতে পারেনি তাই একটু পর তার জান নিয়ে নেওয়া হবে।’
হুম্মাম আরো বলেন, ‘বাবা বলেছেন, ছয় বছর আগে থেকেই মিথ্যা বলছে সরকার।’ সালাউদ্দিন দল-মত-নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া চেয়েছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
এদিকে, বিদায়ী সাক্ষাতকারের সময় সেখানে উপস্থিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরীও দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে কোন প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন তার ভাই।
তিনি আরও জানান, ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে রাজনীতি করেছেন তারাও সেই রাজনীতির জন্য কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, আজ (শনিবার) রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের ৪০ সদস্য বিদায়ী সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে কারাগারে যান। তবে, কারা কর্তৃপক্ষ ১৮ সদস্যকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন।
এদিকে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
তবে, সাক্ষাতকারে মুজাহিদ কি বলেছেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। অবশ্য এর আগেই মুজাহিদের ছেলে ও স্ত্রী জানিয়েছেন মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার কোন আবেদন করেননি।
এদিকে, সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কারা ফটকে চারটি অ্যাম্বুলেস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাতে ফাঁসি কার্যকরের পর এই চারটির যে কোন দুটি অ্যাম্বুলেন্সে সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
কেবি





