সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের খলনায়ক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে মহানায়ক গত ১৩ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ছিলেন না, তিনি মুক্তিযুদ্ধের খলনায়ক ছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসিত করেছিলেন। এখন তার স্ত্রী- সন্তান (খালেদা-তারেক) জিয়ার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
হানিফ বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখন আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে তারা আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায় কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেটা আর হতে দিবে না।
তিনি বলেন, গত আড়াই মাস ধরে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তারা দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ক্ষমতায় থেকে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেদা জিয়া। এখন এই মামলা থেকে অব্যহতির জন্যেই তিনি আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছেন।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, পাকিস্তানেরে এজেন্ট বলেই খালেদা জিয়া স্মৃতিসৌধে যায়নি। তিনি এখনও পাকিস্তানের গভীর প্রেমে মগ্ন।
খালেদা জিয়া কেন স্মৃতিসৌধে যাননি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা লে.জে. মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ বলে স্মৃতিসৌধে যেতে পারেননি- এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, আমি বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই। খালেদা জিয়াকে কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখে নাই। তিনি জামায়াত ও তারেকের পরামর্শে অবরুদ্ধের নাটক করছেন।
বিএনপির যেসব নেতারা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীদের জনগণ চায় না। নির্বাচনের সময় বিএনপির পেট্রলবোমা হামলাকারীরা নাশকতার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিবে।
বাংলাদেশ কৃষক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ্ব মাকসুদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষায়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা প্রমুখ।
এমআর/ এআর





