দেশের ২০৮টি ইউনিয়ন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আবারও প্রমাণ হল আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে বর্তমান সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁতীপাড়াস্থ পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, দফতর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সাল থেকে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা-৫, পাবনা-৪ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে তার চিত্র দেখা গেছে।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হচ্ছে না- এমন অভিযোগের পরেও বিএনপি কেন অংশ নিচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন একটি মাধ্যম। গণতান্ত্রিক এই ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট ডাকাতি, কারচুপির নির্বাচনের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার জেলা পর্যায়ে পরে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষকে অংশ নিতে আহবান করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাড়া দিতে গিয়ে বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যে মামলার আসামি। আর খুন হয়েছেন ১ হাজার নেতাকর্মী। সাবেক সংসদ সদস্যসহ ৫০০ নেতাকর্মীকে গুম করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপরও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশকে পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করেছে। এই প্রতিকুল অবস্থায় দেশে সুশাসন, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সহজ ব্যাপার নয়। তবে অবশ্যই গণ আন্দোলনে মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটবে। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করছে বিএনপি।

এমবি