জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও এদেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ থেকে এখনো বঞ্চিত। এখনও দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ মানুষ। বাকশাল ও স্বৈরতন্ত্রের কবলে পড়ে গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়।

সমাজের বিপন্ন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্বাধীনতার সুফল তাদের দ্বারে পৌঁছাতে হবে। তাই স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সুখী-সম্দ্ধৃ ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকে নিপীড়ন-নির্যাতনের পথ থেকে সরে এসে সহনশীলতার রাজনীতি চর্চা করতে হবে।

স্বাধীনতাকে পুরোপুরি অর্থবহ করতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সহ সকলের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য কামাল হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য মু. আব্দুল জব্বার, জামায়াত নেতা আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও পতাকা নিয়ে চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। কিন্তু অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের অধীকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার আজ ভূলুন্ঠিত। মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারছেনা।

ক্ষমতাসীনদের অপরাজনীতি ও দুঃশাসনের কারণে দীর্ঘকালের পরিক্রমায়ও মানুষের অধীকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেশ ও ধর্ম বিরোধী কোন অপশক্তিকে এদেশের জনগণ অতীতে কখনো মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও মেনে নিবে না। তাই মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার জুলুমবাজ ও ফ্যাসীবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরোও বলেন, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধবংস করে আওয়ামী সরকার আজ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন ও জার্মানী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের নাম স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা আমাদের আমাদের জাতীয় অর্জনকে ম্লান করেছে।

আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতন, অপশাসন ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ বাংলাদেশকে আজ এই লজ্জাজনক অবস্থায় নিয়ে গেছে। সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ৫ই জানুয়ারীর মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করে আজীবন ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়। তিনি অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ, ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সহ গ্রেফতারকৃত বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ড.হেলাল বলেন, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে জাতির বীর সন্তানেরা স্বাধীনতা এনেছিল। কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে আজ বিকিয়ে দেয়ার পায়তারা চলছে অথচ কোন আধিপত্যবাদী শক্তির গোলামি করার জন্য এদেশ স্বাধীন হয়নি। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগনকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে আহবান জানান।

এসময় তিনি আমিরে জামায়াত মকবুল আহমদ, নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারী ড. মুহা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানান।

পরিশেষে মাওলানা আবদুল হালিম স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি কামনা করে মহান আল­াহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিশেষ দোআ পরিচালনা করেন।

এছাড়াও আজ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় থানায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

জেড