হিথরো বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গতকাল শুক্রবার রাতে হাতাহাতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়ে কে কোন পক্ষে থাকবেন, তা নিয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতি, টানাটানি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, আগামীকাল রোববার পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম হলে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি সভা হওয়ার কথা। ওই সভায় আমন্ত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম এবং দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল লন্ডনে যান। তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা তিন নম্বর টার্মিনালে দুটি আলাদা সারিতে দাঁড়ান। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নেতারা টার্মিনালে আসেন। এ সময় তাঁদেরকে ফুল দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। লিফটে ওঠার সময় একপক্ষ আরেক পক্ষের নেতা-কর্মীদের কিল, ঘুষি মেরে সরিয়ে দেয়।
পরে গাড়ি রাখার স্থানে নেতাদের গাড়িতে তোলা নিয়ে হাতাহাতি শুরু হয়। প্রৃচণ্ড হট্টগোলের মধ্যে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম বলেন, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন্দল সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। সভাপতি সায়েদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সানু মিয়ার নেতৃত্বে যে কমিটি রয়েছে, সেটাই যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের একমাত্র কমিটি। সারওয়ার আহমদ ও ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে অন্য যে গ্রুপটি তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছে, তিনি তাঁদের চেনেন না বলে দাবি করেন।
আব্দুল আলীমের দাবি, জামায়াত-শিবিরের লোকেরা বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। যাঁদের আপনি চেনেন না, তাঁরা যে জামায়াত-শিবিরের লোক সেটা কীভাবে নিশ্চিত হলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আলীম বলেন, ‘ওঁরা আমাদের সংগঠনের কেউ নয়।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের নেতারা হাতাহাতির কথা অস্বীকার করে বলেন, মানুষ বেশি হওয়ার কারণে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিরোধ সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি।
এএইচ





