তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনু বলেছেন, একাত্তরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের যেভাবে দমন করা হয়েছিল, সেভাবেই বর্তমান সন্ত্রাসীদের দমন করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে যুদ্ধবস্থার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল) এর আয়োজনে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘ভাষা আন্দোলন : কমরেড তোয়াহা’র ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের সন্ত্রাসীদের সঙ্গ ত্যাগ করুন। আর যদি তা না পারেন তাহলে চুপ করে থাকুন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সাথে আলোচনার আবেদন নাকচ করে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কেবল নির্বাচনই সমাধান নয়, স্থায়ী শান্তির জন্য আগুন সন্ত্রাসীদের দমন-বর্জন করতে হবে। আগুন সন্ত্রাসীদের দমন ও বর্জনের পরই রাজনীতি এবং গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলেন, এ অপশক্তির সাথে কোন আলোচনা, মিটমাট, কাটছাট করার সুযোগ নেই। একটাই আলোচনা হতে পারে, সেটা হচ্ছে জনগণের কাছে তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।

তিনি বলেন, যারা আলোচনার কথা বলছেন, তারা জনগণ ও গণতন্ত্রকে অস্বীকার করছেন। আপনারা সরকারের কাছে তদবীর না করে খালেদার কাছে ধরনা দেন। তাকে বলুন আগুন সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, তালেবানকে বর্জন করতে। না হলে মুখ বন্ধ রাখুন। কারণ এটা যুদ্ধ।

তিনি বলেন, একাত্তরের মতোই এ যুদ্ধে আগুন সন্ত্রাসীদের পরাজিত করে স্থায়ী শান্তি আনতে হবে। আর সেটা এমনভাবে করবো, যাতে বিষধর সাপ আর মাথা তুলতে না পারে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা ’৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ এর নির্বাচন এবং সংসদ মানেনি। তাই নির্বাচন হলেই শান্তি হয় না। আর খালেদা ক্ষমতায় গেলে প্রতিপক্ষকে জানে মারার পরিকল্পনা করে। খালেদার নেতৃত্বে আগুন সন্ত্রাসীরা জনগণকে আঘাত করছে। সিংহাসনের লোভে খালেদা জনগণকে পুড়িয়ে মারছে।

তিনি বলেন, এ অপশক্তির কাছে জনগণ নতিস্বীকার করবে কিনা তা ভাবার সময় এসেছে। মনে রাখতে হবে, আগুন সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। খালেদা এসবের মূল নির্দেশ দানকারী। এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি আর তালেবানের কোন পার্থক্য নেই।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশ আজ দুভাগে বিভক্ত। এ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে হবে। সেজন্য জনগণকে সাথে রাখতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়েই সন্ত্রাসের রানী খালেদাকে প্রতিহত করতে হবে।সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমরেড নুরুল হক মেহেদী, কবি ইন্দু সাহা প্রমুখ।

কেবি