ঢাকায় চলন্ত মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেছেন, সরকারের মদদে একের পর এক ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে।

বুধবার সকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপিড়নের প্রতিবাদে এবং অপরাধিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ সভা‘য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেবেল রহমান গানি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ধর্ষণ-নিপীড়ন ঘটনার কোনো বিচারই হচ্ছে না। অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সরকার নির্বিকার। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। পুলিশ প্রধান যৌন নিপীড়নকে ‘দুষ্টুমি’ বলে চিহ্নিত করে ধর্ষক-যৌন নিপীড়কদের উস্কে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের উস্কানি ও মদদে ধর্ষকরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেছেন, বিচারহীনতার ধারায় এখন দেশ চলছে। ধর্ষক-নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ না করে সরকার কি দেশকে ধর্ষক-নিপীড়কদের ‘অভয়ারণ্যে’ পরিণত করতে চায়?

সরকার যেখানে নির্বিকার, সেখানে জনগণকে নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক লড়াই তীব্র করতে হবে।

 নগর আহবায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু‘র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব সারওয়ার খান, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নগর যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আনছার রহমান শিকদার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, সদস্য মোঃ শামিম ভুইয়া, তোফাজ্জল হোসেন ভানু, সোলায়মান সোহেল, মোঃ বেল্লাল হোসেন, মোঃ আবুল কালাম সরদার, আবদুল্লাহ আল-মাসুম, জিল্লুর রহমান পলাশ, আবদুল্লাহ কাউছার প্রমুখ।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় সমপূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় মাইক্রোবাসে গারো স¤প্রদায়ের একটি তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি মেয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় আমরা মনে করেছিলাম, সরকার দ্রæত দোষীদের চিহ্নিত করবে। তাদের বিচারের আওতায় আনবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো নড়াচড়া নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্ষবরণের দিন ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষীদের বিচার করলে ফের রাজধানীতে গারো মেয়ে ধর্ষিত হতো না। এ ঘটনায় বাংলাদেশী হিসেবে আমরা ভীষণ লজ্জিত।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ শাহজাহান সাজু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, সরকার সব ক্ষেত্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

সচেতন মানুষ নিপীড়কদের গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার হলেও, যৌন নিপীড়কদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সরকার কিছুই করেনি। বরং নিপীড়করা নয়, নির্যাতনের প্রতিবাদকারীরাই এখন সরকারের টার্গেট।

জেডআই