বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাইনবোর্ড সামনে রেখে দখল, দুর্নীতি, হানাহানী, লুটপাটকে যারা নিজেদের জীবন দর্শন করেছেন তারা নিজেদের স্বার্থে এমন কোনো কাজ নেই, যা তারা করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি চিবিয়ে এখন ক্ষমতাসীন দলের চেলা চামুন্ডারা নিস্ব নিসম্বল মুষিক থেকে ঐরাবতে পরিণত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যারা অক্লেশে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে তারা তো নিজেদের অবৈধভাবে দখল করা গদি রক্ষা করতে তাদের সমালোচক ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আর হানাহানির মতো বিবেকবর্জিত কাজই করবেন।

রিজভী বলেন, সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এদিকে গ্রেনেড হামলার প্রক্রিয়ায় ঝামেলা রয়েছে, অথচ মামলায় আমি আসামীও হতে পারিনি সাক্ষীও হতে পারিনি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অন্যায় ও হিংসার বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করতে গেলে আসল সত্য বেরিয়ে পড়বেই। কারণ ওই মামলায় বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ৭ নং সাক্ষী। অথচ কত অবলীলায় সেটাকে আড়াল করে অসত্য বিবৃতি প্রদান করেন সংবাদ মাধ্যমে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের সামনে। এ থেকেই বোঝা যায় ভোটারবিহীন এই সরকার দৃশ্যমান হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কিভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে দলীয় মনোভাবাপন্ন লোককে আইও নিয়োগ করে দ্বিতীয় দফা সম্পুরক চার্জশীট দিয়ে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবর্গের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এহেন অসামঞ্জস্যহীন ও বিভ্রান্তিকর মনগড়া কথাবার্তাতেই মনে হয় ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার মামলা ন্যায় বিচারের পথে যেতে দেয়া হবে না। প্রকৃত ঘটনার গভীরভাবে অনুসন্ধান না করে আসল আসামীদের আড়াল করার মাধ্যমে তারেক রহমানকে জড়ানোটাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সুদুর প্রসারি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে এই ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সেজন্য এরা অসত্য, অন্যায় ও মিথ্যা প্রচারের ওপর নির্ভর করছে। এরা গল্পে কথিত সেই মিথ্যাবাদী রাখাল। এভাবে মিথ্যা চিৎকার করতে করতে যেদিন সত্যি সত্যি বাঘের খপ্পরে পড়বে তখন আর্তচিৎকার করে লাভ হবে না। জনগণ কখনোই এগিয়ে আসবে না।

এমএইচ/ এআর/জেআই