‘ভারমুক্ত’ হওয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

একই সাথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার দল বিএনপি রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন আশা প্রকাশ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকলে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে। মাসখানেকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের সাথে চুক্তির মাধ্যমে কর্ণফুলি টানেলের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া ২০১৮ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম ২২৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হবে।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ওমর ফারুক।

এর আগে সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ করার অপরাধে একটি পরিবার সন্তানহারা হবে এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এর দায় নিতে হবে। মনে রাখবেন কিছু ছোট খাটো ঘটনা বড় সব অর্জন ম্লান করে দেয়। এ অবস্থার অবসান হতে হবে।’

চট্টগ্রামের খোঁজখবর প্রধানমন্ত্রী রাখছেন উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে এই অনভিপ্রেত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। এই ঘটনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে আমি নিজেও খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আরেকটি মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদেশি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের প্রথম মেরিন ড্রাইভের ৮২ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৮ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। আলীকদম-খানচিতে ৩০০০ মিটার উপর দিয়ে সড়ক তৈরি হবে। কানেকটিভিটি না হলে উন্নয়ন হবে না। ভবিষ্যতে যানজট কমাতে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিীন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএফইউজের সহ সভাপতি শহীদ উল আলম, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

সম্মেলনে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গুণিজন হিসেবে এবং সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে কৃতি সাংবাদিক হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এমই