স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। বাড়ানো হবে চোরচালান প্রতিরোধে টহল ও মোবাইল কোর্টও। বিশেষ করে চোরাচালান বন্ধে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের মংডু রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চোরাচালনরোধে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের মংডু শহরে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চালু করা যায় কি-না সেটা আমার চিন্তা করছি। এখন শত শত পর্যটক এক দিনের জন্য আমাদের এখান থেকে অনুমতি নিয়ে মংডু যাচ্ছেন, সে রকম আবার মংডু থেকে আসছেন। সেটা একটা সিস্টেমে আনার জন্য আমরা এখানে লঞ্চ সার্ভিস চালু করতে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এসব জায়গার যত্রতত্র গেলে চোরাচালানের যে সম্ভাবনা থাকে তা যেন বন্ধ হয়। যারা আসবেন তারা আমাদের অথোরিটির অর্থাৎ কাস্টমস, বিজিবির সামনে দিয়ে আসবেন। সেভাবেই যাবেন। সেজন্যই আমার এই ব্যবস্থাটা নিতে যাচ্ছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে চোরাই পণ্য আসছে, মাঝে মাঝে জব্দ হচ্ছে। এটা প্রতিরোধের জন্য রেল পুলিশকে আরো সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও চোরচালান প্রতিরোধে টহল ও মোবাইল কোর্টও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তে মালামাল স্ক্যানিংয়ে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করবে। স্থলবন্দনগুলোতে অত্যধুনিক স্ক্যানার মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের সব স্থলবন্দরগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করব। মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে তল্লাশী আরো জোরদার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে এক লাখ ৮৫ হাজার অভিযান চালিয়ে আট হাজার ৬৫০ জনকে আটক করেছে এবং প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার মালামাল আটক করেছে।
সংস্থাওয়ারী চোরাচালান মামলা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নয় হাজার ৮৩৪টি মামলা হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৬৩৩ জন সাজা পেয়েছে।
এমই





