তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা অতীতে দেখেছি তারা (বিএনপি) যখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তখন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আশা করি, তারা এবার সেই পথে হাঁটবেন না। আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটিই আমাদের কামনা।

আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ে লেখা নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই এ কারণে যে, সামনে যে উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে সেই নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য বিএনপিকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে আশা করব গণ্ডগোল পাকানোর জন্য তারা নির্বাচনে আসবে না, জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্যই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে সবচেয়ে সুবিধাভোগী পরিবার হচ্ছে জিয়াউর রহমানের পরিবার। ৭৫-এর পর জিয়াউর রহমান রাজাকারদের খুঁজে খুঁজে বের করে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছেন এবং একাত্তরের পরে যে ১১ হাজার রাজাকার কারাগারে ছিল তাদের মুক্তি দিয়েছেন। যাদের শাস্তি হয়েছিল তাদের শাস্তি তিনি মওকুফ করে দিয়েছেন। এটি কেন? তিনি যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হতেন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হতেন তাহলে এদের মুক্তি দিতে পারতেন না।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই অপারেশনে প্রায় ১০০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ১০০ মানুষের হত্যার বিচার যাতে না হয় সেজন্য বেগম খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি আদেশ দিয়েছিল। অপরদিকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বাঁচানোর জন্য ইনডেমিনিটি আদেশ জারি করেছেন। তাঁরা দুজনেই হত্যার রাজনীতি পরিচালনা করেছেন।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম সোলায়মান চৌধুরী সুজন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।

এএস