শাসকদল ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে ঘিরে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটাতে চায়। দেখাতে চায় তাদের জনপ্রিয়তা। ওই দিনকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে দলটি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পর পর দু’বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু ও রায় কার্যকর করার আনন্দে এ ঐতিহাসিক দিনটিকে এবার আরও ব্যাপকভাবে পালন করতে চায় দলটি।
শীর্ষ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তাদের জনসভায় ২০ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটাতে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সার্কুলার জারি করা হয়েছে, মূলদলসহ প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে।
এক্ষেত্রে পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল সহযোগী সংগঠনকে স্বস্ব দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানান দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতানেত্রীদের লোক সমাগমের টার্গেট দেয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে সমাবেশ স্থলে লোকে-লোকারণ্য করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের সকল পর্যাযের নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে ঢাকা শহরের প্রতিটি অলি-গলিতে লাগানো হয়েছে ৭ মার্চের জনসভার পোষ্টার। এ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানেও প্রচারণা চালাচ্ছেন দলীয় নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বর্ধিত সভা করেছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। এছাড়াও সমাবেশের আগের দিন ৬ মার্চ সকাল ১১টায় সমাবেশ সফলের বিষয়ে সর্বশেষ প্রস্ততি সভা করবে ঢাকা মহানগর।
৭ই মার্চের ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সারির এক নেতা জানান, রাজধানী ঢাকার ৯০টি ওয়ার্ড ও প্রস্তাবিত দু'টি ওয়ার্ডসহ ৯২টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাদের সাথে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তারা প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় শিল্পাঞ্চল ও গার্মেন্টস রয়েছে সেসব এলাকায় টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে বেশি।
রাজধানী ও এর আশপাশের সকল সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের নির্বাচন করতে পারেন এমন নেতাদেরকে তাদের স্বস্ব এলাকায় লোক সমাবেশের বিষয়ে ঘরোয়া পরিবেশে বৈঠক করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ও মহানগর সংগঠন থেকে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের ৯২টি ওয়ার্ডের মধ্যে দক্ষিণের ৫৬টি ও উত্তরের ৩৬টি ওয়ার্ডের সকল জনশক্তিকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে।
সূত্র আরও জানায়, ওয়ার্ডগুলোতে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত কর্মী সমাগম করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন।
যেসব এলকায় গার্মেন্টস ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বেশি রয়েছে, এর মধ্যে মিরপুর, শ্যামপুর, ডেমরা, সূত্রাপুর, লালবাগ, হাজারিবাগ, তেজগাঁও, খিলগাঁও, শিল্পাঞ্চল থানা, পল্লবী, উত্তরা, দারুসসালাম ও মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী সমাবেশ ঘটাতে টার্গেট দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বাঙলা কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীদেরকে সমাবেশে উপস্থিত করতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে আওয়ামী লীগ।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারিদলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত থেকেই এধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তারা সাধারণ মানুষসহ দেশ-বিদেশকে জানাতে চায়, আওয়ামী লীগ এখনও জনতার দলে। জনগণের সাথে রয়েছে তাদের নিবির সম্পর্ক। কিন্তু ১৯ দলীয় জোটের নানামুখী প্রচার প্রপাগাণ্ডায় বেকায়দায় রয়েছে শাসকদল।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, সংসদে বিএনপিসহ প্রভাবশালী দল না থাকায় সরকার বিব্রতবোধ করছে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের দিবসটি ফলাও করে প্রচার করে তারা আবারও জানান দিতে চায়, আওয়ামী লীগ বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি রয়েছে। তারা জনগণের স্বার্থেই সকল কার্যক্রম চালাচ্ছে। জনতার কল্যাণ ও জনগণের ভাগ্যের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করতে চায়।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপন করেছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে আঘাত হনা হয়েছে। কায়েম করা হয়েছে গণতন্ত্রের নামে পেশীতন্ত্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এ জাতীয় নির্বাচন কেবল আওয়ামী লীগই নয়, তাদের সুভাকাঙ্খি ও সুভানুধ্যায়িদেরও আহত করেছে। আওয়ামী লীগের ঘরের বাতি নিভিয়ে সেখানে অন্ধকার সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে এসব কথা মানতে রাজি নন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই ওই নির্বাচন ছিল। এর বাইরে কিছু নয়।
অপরদিকে বিএনপি ও তাদের ঘরানার রাজনৈতিক দলের দাবি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে আকড়ে রাখার জন্যই ওই পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করেছিল। তারা ক্ষমতাকে কুক্ষ্মিগত করে রাখতেই সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক টাইম নিউজকে বলেন, ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের মত গণজোয়ার সৃষ্টি করতে চাই। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিবেন। যেভাবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে স্বধীনতার দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই সমাবেশে জনসমাগম বাড়াতে ঢাকার আশ পাশের নেতাকর্মী ও সহযোগি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে ৭ মার্চের সমাবেশকে সফল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী সামনে দিকে এগোচ্ছি। এবারের ৭মার্চ দিনটি সর্বকালের সর্ব বৃহত্তম ভাবে পালন করা হবে।
[b]ঢাকা, এমআর, ৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এএম // এআর[/b]
রাজনীতি
ব্যাপক লোকের সমাগম: টার্গেট ২০ লাখ
শাসকদল ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে ঘিরে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটাতে চায়। দেখাতে চায় তাদের জনপ্রিয়তা। ওই দিনকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে দলটি। ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারিদলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত থেকেই এধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ





