বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কখনোই ভাববেন না, আমরা পরাজিত হয়েছি। বরং পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র।’
‘আওয়ামী লীগ সরকার এবং এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশে আর কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেয় না। যারা ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রকে লুট করেছে, মা-বোনের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘর ছাড়া করেছে তাদের ক্ষমা করা করা যাবে না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশে ৯৮ হাজার মিথ্যা মামলায় ২৬ লাখ আসামি, দলের কেউ বাদ পড়েনি। তাই দেশকে বাঁচাতে, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে জেগে উঠতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে জানে। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্রসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন আমাদের এই আসনে মামলা হয়েছে ২১টি, ৬১৬ জনের নাম দিয়ে এজাহার করা হয় এবং ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একেবারে নিরপরাধ মানুষদের ধরে নিয়ে গেছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘লাল কাপড় দিয়ে ঘেরা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে, আওয়ামী লীগের লোকজন নয়, প্রশাসনই এসব করেছে।
কেন এসব করতে হচ্ছে, কারণ জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে নাই।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা পরিবারের কেউ বাদ যাচ্ছে না। স্বামীকে না পেলে স্ত্রীর নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে, বোনের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
এখন একটা মানুষ যে বিপদে পড়ে কারো কাছে যাবে বা প্রশাসনকে জানাবে সে উপায় নেই। মানুষের বিশ্বাস নাই, আস্থা নাই।’
একটি স্বাধীন দেশের প্রশাসন এমন হতে পারে না বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধ হলে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো মতেই জিতে আসা সম্ভব নয়। এদের জনগণের ওপর আস্থাও নাই ভরসাও নাই।’
এএস





