জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের জন্য খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের প্রক্রিয়া কখনোই এক ছিল না।

বাবলু বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ এক নয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এসেছেন একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সামরিক আইন জারির মধ্য দিয়ে। আর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসেছেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পথ বেয়ে শেষ পর্যন্ত ’৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অসংখ্য দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের সিঁড়ি বেয়ে।

তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৭ বার সেনা বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে। সেই বিদ্রোহী দমনের নামে জেনারেল জিয়া কত হাজার সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন তার কৈফিয়ত এখন তাঁর উত্তরসূরি স্ত্রীকেই দিতে হবে। সেসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বেগম জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’ তিনি খালেদা জিয়াকে ‘জাতীয়তাবাদের কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বাবলু বলেন, ‘তিনি আবোল-তাবোল বকছেন।’ তিনি মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কাচের ঘরে বসে বাইরে ঢিল ছুড়বেন না। বিএনপির জন্ম-ইতিহাস, তার কর্মকাণ্ড এবং এই দলের প্রতিষ্ঠাতার ক্ষমতায় আসার ঘটনাবলি স্মরণ করতে হবে।’

বাবলুর অভিযোগ, জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর খালেদা জিয়া তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে স্বাধীনতার চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছেন। তাঁর জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বাবলু আরও বলেন, ‘এরশাদ তাঁর লেখা নিবন্ধে ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সত্য কথা মির্জা আলমগীর সাহেবের গায়ে সহ্য হয়নি বলে তিনি আবোল-তাবোল বকেছেন। এ পর্যন্ত বিএনপি যা করে এসেছে, তাতে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েও হয়তো মার্জনা পাওয়া যাবে না। তাই এরশাদের কাছে তাঁকে আগে ক্ষমা চাইতে হবে।’

ঢাকা, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই