বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, দেশের একটি প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বৃটিশদের হাত থেকে ভারত-পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশের সাড়ে তিন মাস পর গঠিত হয় ছাত্রলীগ। অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বপ্রথম ছাত্র সংগঠন এটি। দলের শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম আওয়ামী লীগের জন্মেরও এক বছর আগে। ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ নামে যাত্রা শুরু এই সংগঠনটির। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
সংগঠনটির ইতিহাস থেকে জানা যায়, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগ থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, বিএ অধ্যয়রত অবস্থায় কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি নিখিল বঙ্গ মুসলিম লীগের কাউন্সিলর ছিলেন। সাথে সাথে নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের কার্যক্রমেও ভূমিকা রেখেছেন।
স্বাধীনতার এই স্থপতি ১৯৪৭ সালে বিএ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ভর্তির কিছুদিন পর পাকিস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হলে তিনিই সর্বপ্রথম স্বাধীন পাকিস্তানে ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনিয়তা অনুভব করেন । গঠন করেন ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ’।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সভাকক্ষে এক সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। আহ্বায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলে এর সভাপতি মনোনিত হন দবিরুল ইসলাম।
১৯৪৯ সালের ২৩জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। পরবর্তীতে দলে সাম্প্রদায়িক বিতর্ক এড়িয়ে চলতে ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ । সাম্প্রদায়িক অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে একই সাথে ছাত্রলীগের নামেও পরিবর্তন আসে, ছাত্রলীগের নাম হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’। কার্যক্রম চলতে থাকে ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ‘মুজিব বাহিনি’ গঠিত হয়। মুক্তি বাহিনি, মুজিব বাহিনিসহ বিভিন্ন নামে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। অর্জিত হয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পর দলের নামেও পরিবর্তন আসে । ছাত্র লীগের নাম হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
এক এক করে ৬৯ বছর শেষে আজ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলো সংগঠনটি। শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি বাস্তবায়নে এখন কাজ করছেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সেক্রেটারি এস এম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা।
দেশ স্বাধীন হবার পর ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনটি ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে সংগঠনটির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের অভিভাবকের দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
কেবি





