‘আর কোনো বুদ্ধিজীবী যাতে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত না পোষণ করেন সেজন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাহবুবউল্লাহ’র ওপর হামলা করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবউল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করে শত নাগরিক জাতীয় কমিটি।

ড. মাহবুবউল্লাহর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এতো বিষয়ে রুল জারি করতে পারে, অথচ মাহবুবউল্লাহর ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে কোন রুল জারি করতে পারে না। এটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ নয়।’ এছাড়াও এমন একটি ঘটনার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রতিবাদ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

প্রতিবাদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা গণতন্ত্র থেকে শুরু করে স্বাধীনতা, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তির মৌলিক অধিকার হারিয়েছি। শেষ পর্যায়ে এসে হারালাম ব্যক্তির নিরাপত্তা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অপমান শুধু মাহবুবউল্লাহর নয়, এই অপমান দেশের সকল বুদ্ধিজীবীর। তাকে এই অপমান করা হয়েছে যাতে আর কেউ মুখ খুলতে না পারে।’

এই হামলা বিছিন্ন কোনো ঘটনা নয় উল্লেখ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে সরকার আরও একবার প্রমাণ করেছে যে দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই।’

সাবেক বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, ‘এভাবে যদি শিক্ষিত সমাজকে নিগৃহীত করা হয় তবে আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে কিছু থাকবে না। ’ তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই হামলার ঘটনার জড়িতদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

প্রতিবাদ সভায় আরেও বক্তব্য দেন- সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্ল্যাহ বুলু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উপস্থাপক শফিক রেহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজ) একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই