আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শনিবার (২৩ নভেম্বর) যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস (সম্মেলন)। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১১টায় এ কংগ্রেস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনটির আগামী দিনের করণীয় কী হবে- সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। দ্বিতীয় সেশনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এ অধিবেশনে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব আসবে।
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য, অনুপ্রবেশসহ নানা অপকর্মে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই নতুন কমিটির মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হন।
এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেখানে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদন ছাড়াও নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারা দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮টি জেলার মর্যাদাসম্পন্ন বৈদেশিক শাখার প্রায় ৩ হাজার কাউন্সিলর ও ২৫ হাজার ডেলিগেট এবং ৮ হাজার অতিথিকে কংগ্রেসে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যুবলীগের নতুন নেতা কে হবেন এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।
সেটা আগামীকাল (আজ শনিবার) যখন দ্বিতীয় অধিবেশন হবে, সেখানে কাউন্সিল সেশনে চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রার্থী হিসেবে আসবে।
অধিক প্রার্থী থাকলে তাদের একজন হওয়ার জন্য সময় দেব। সেই সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে উপস্থিত নেতারা এবং সর্বোপরি আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে আলাপ করে নতুন কমিটির চেয়ারম্যান-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করব।
যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যদি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির রক্তের উত্তরাধিকারের কাউকে এখানে চায় পরবর্তী নেতা হিসেবে, সেটা অবশ্যই যুবলীগের অধিকার আছে।
কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের দিন মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে কিনা- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্মেলন ছাড়া উত্তর-দক্ষিণ কমিটি আমরা করব কিভাবে?
আমরা আশা করছি, আমাদের জাতীয় কাউন্সিলের পর মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সম্মেলন আয়োজন করবে যুবলীগের নতুন কমিটি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ শুক্রবার বলেন, কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন যে নেতৃত্ব আসবে তাদের কাজ হবে সংগঠন পরিষ্কার করা।
এর সঙ্গে হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা, অর্থলিপ্সা থেকে নেতাদের সরিয়ে ফেলা- এসবই হবে নতুন নেতৃত্বের মূল চ্যালেঞ্জ।
যুবলীগ নেতাকর্মীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত আজকের কংগ্রেসে বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দীপুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
যুবলীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, গণভবন থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তাদের দাওয়াতপত্র দেয়া হয়নি। ক্যাসিনোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে তাদের সম্মেলন প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
কংগ্রেসকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নেতাদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ৫৫ বছরের বেশি বয়সের কোনো নেতা এবারের কংগ্রেসে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না।
২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কংগ্রেস হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর সপ্তম কংগ্রেস হচ্ছে।
এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনের কংগ্রেসের সব প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
কংগ্রেসস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকাকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মূল কংগ্রেস মঞ্চ নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে।
অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর ওপর বসে কংগ্রেস উপভোগ ও বক্তৃতা করছেন- এমন একটি আবহ তৈরি করা হয়েছে।
এএস





