বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদাক মাহমুদুর রহমান যাতে জেল থেকে বের হতে না পারেন সেজন্য সরকার নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে আরও মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করছে।
বুধবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবী করেন।
তিনি বলেন, দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজ দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ রয়েছেন। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি আজ সরকারের সীমাহীন জুলুমের শিকার। মাহমুদুর রহমান বিনা অপরাধে জেলে বন্দি থাকার আজ ১০৩৫ দিন অর্থাৎ প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে। উচ্চ আদালত থেকে তার সবগুলো মামলার জামিন হয়েছে এবং কোর্ট থেকে বেইলবন্ড বা জামিননামাও যথারীতি কারাগারে পৌঁছেছে। কিন্তু তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তার সর্বশেষ মামলার জামিননামা গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কারাগারে পৌছে।
রিজভী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরদিন শুক্রবার সকালেই তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা। কিন্তু সরকার একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার না করার অজুহাত দেখিয়ে তাকে সম্পূর্ন অন্যায় এবং অবৈধভাবে আটকে রেখেছে। পিডব্লিউ প্রত্যাহার একটি মামুলি ব্যাপার। নিয়ম হলো মামলায় আসামীর জামিন হয়ে গেলে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পিডব্লিউ প্রত্যাহারের আবেদন করলেই তা প্রত্যাহার হয়ে যায়। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, মাহমুদুর রহমান সম্পাদিত পত্রিকায় বিডিআর হত্যাকা-, বিচারপতির স্ক্যাইপ কেলেঙ্কারী, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু-হলমার্ক-বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে তার পত্রিকায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সরকার তার প্রতি বিরাগভাজন হওয়ার এটাই কারণ। এ জন্যই সরকার মাহমুদুর রহমানকে সহ্য করতে না পেরে অন্যায়ভাবে, আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল অত্যন্ত বর্বর কায়দায় গ্রেফতার করে। এরপর ১৯দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়। তার বিরুদ্ধে একের পর এক ৭০টি মামলা দেয়া হয়। শুধু মামলাই নয়, তার পত্রিকা দৈনিক আমার দেশের ছাপাখানা তালাবদ্ধ করে এবং বিকল্প প্রেস থেকেও পত্রিকা প্রকাশ করতে না দিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ পাঠককে আমারদেশ পড়া থেকে বঞ্চিত করে। আজ তিন বছর ধরে পত্রিকাটি বন্ধ। পত্রিকার ৫ শতাধিক সাংবাদিক বেকার হয়ে কষ্টের জীবন-যাপন করছেন।
রিজভী বলেন, সরকারের প্রতিহিংসার জন্য আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, ইসলামিক টেলিভিশন সহ ভিন্ন মতের মিডিয়াকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আজ শওকত মাহমুদের মতো একজন গুনী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতাকে বিনা অপরাধে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ৮৬ বছর বয়স্ক প্রবীণ নেতা এমকে আনোয়ারের বিরুদ্ধে কি আচরণ করা হচ্ছে তা আপনারা দেখছেন। তারও জামিন হওয়া সত্ত্বেও জেল থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকেও জেল থেকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।
আমরা এই মূহুর্তে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, শওকত মাহমুদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
এমএইচ





