আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া ভোটের তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিও জানানো হয়।

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তিন তলার নতুন হলে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নূন্যতম শর্ত এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বিটিভিসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. শামছুল হুদাসহ দেশের প্রায় সকল দল ও জনগণের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন। ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যে সাত দফা দাবি আমরা এর মধ্যে দিয়েছে, সেই দাবি থেকে আমরা সরে আসছি না। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে, নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের বর্তমান তফসিল বাতিল করে এক মাস পিছিয়ে দিয়ে নতুন তফসিলে ঘোষণার দাবি করছি। সেই ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে।’

২০০৮ সালের নির্বাচনের তফসিলও দুই দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তফসিল পেছানোর দাবিসহ সাত দফা দাবি আদায়ের সংগ্রাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অব্যাহত রাখবে। সেই আন্দোলন-সংগ্রামের পথে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকেও আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মো. মুনসুর, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, হাবীবুর রহমান হাবীব, জগলুল হায়দারী আফ্রিক, আবদুল মালেক প্রমুখ।

এ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনও উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল বিএনপি ও তাদের শরিকদের মধ্যে।

এ নিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করে বিএনপি। কাছাকাছি সময়ে অপর একটি কক্ষে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গেও বৈঠক হয়। এ ছাড়া আলাদাভাবে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এসএম