ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অপসারণ দুর্নীতিবাজদের দ্বন্দ্বের ফসল। আজ রাষ্ট্রের সব জায়গায় দুর্নীতিবাজরা জেঁকে বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

এই দুর্নীতিবাজদের কারণে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাগারে আটকে রাখা যাবে না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তাঁতী দলের মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে আগুন জ্বলছে। তারা তাদের বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরে পেতে রাজপথে নামবে।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কিছু মামলা হয়। এই যে ছাত্রলীগের দুজনকে অপসারণ করা হয়েছে, এটা দুর্নীতিবাজদের মধ্যে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে, তারই ফসল। অথচ দুর্নীতির কোনো বিচার বাংলাদেশে এখন হচ্ছে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে যেমন আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকেও এই আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার কারাগারে আটকে রাখতে পারবে না।

দেশের মানুষের মনে আগুন জ্বলছে। মানুষের মনে গণতন্ত্রের আন্দোলন চলছে। বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরে পেতে, বিএনপির চেয়ারপারসনকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে মানুষ রাজপথে নামবেই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন, এত নির্যাতনের পর বিএনপি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? তবে আমার প্রশ্ন, যারা রাতের আঁধারে মানুষের ভোট চুরি জোর করে দক্ষতা দখল করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আছে, সেই আওয়ামী লীগ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? এই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? তারা তো এখন জনগণের মুখোমুখি হতে পারছে না।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুশৃঙ্খলভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকেই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা সহজ। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিগত দিনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আবারও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। কারণ, তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, তিনি বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট চুরি করে জোর করে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব ছিল না।’

আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের চলার পথ গণতান্ত্রিক। নির্ভরশীলতা হচ্ছে, দেশের জনগণ। নানা নির্যাতন-অত্যাচারের কারণে বিএনপি আজ খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। এই দলের নেতা হচ্ছেন গণতন্ত্রের মা। আমাদের নির্ভরশীলতা কোনো সরকারি সংস্থার ওপর নয়। এটাই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের শক্তি।

বিএনপি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী। গুম-খুন-হত্যা আর মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও জ্বলেপুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে বিএনপি।’

বিএনপি নেতা আরো বলেন, দেশের রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দেশে যে পরিবেশ এই আওয়ামী সরকার তৈরি করেছে, তার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

অপকর্ম আর অপশাসনের কারণে তাদের একদিন আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এই দল পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সংস্থা নির্ভর দল হয়ে গেছে। যার কারণে এখন আর মানুষের কাছে ফিরে যেতে পারবে না। ফিরে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হবে।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

 

এএস