ঢাকাসহ সারা দেশের কারাগারগুলোতে থাকা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের তত্ত্বাবধানে কারাগারে থাকা নেতা-কর্মী কিংবা তাদের পরিবারের কাছে দলের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এ উপহার।

কোথাও আর্থিক সহায়তা, আবার কোথাও ঈদ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তবে কোথাও গোপনে দেওয়া হয়েছে এ সহায়তা। অনুকূল পরিবেশ না থাকায় আবার কোথাও এ সহায়তা দেওয়াই সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘খুশির বার্তা নিয়ে আসা ঈদ বিএনপির অনেক নেতার কাছেই বিষাদে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে যারা কারাগারে রয়েছেন। তবে ঈদকে সামনে রেখে এসব নেতা-কর্মীর জন্য নেত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়ায় কারাগারে থাকলেও তাদের মনোবল দৃঢ় ও চাঙা হবে।’

এটিকে ভালো উদ্যোগ দাবি করে এ জন্য খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে কারাগারে থাকা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী নেতা-কর্মীদের দলের পক্ষ থেকে কম-বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান ও ঈদ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কোথাও আর্থিক সহায়তা আবার কোথাও ঈদ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এটা আসলে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অনেক জায়গায় আবার আমাদের দেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি।’

ঠিক কতজনকে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সারা দেশের কারাগারগুলোতে থাকা আমাদের নেতা-কর্মীদের প্রকৃত সংখ্যা বলা কঠিন। তবে সব মিলিয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে রয়েছে।’

এদিকে, বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সারা দেশে গুম-খুন ও পঙ্গুত্ব বরণকারী নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের নির্দেশনায় গত ২৪ জুন থেকে জেলা পর্যায়ের নেতারা এসব পরিবারের কাছে গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর আন্দোলন এবং ২০১৫ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে যেসব নেতা-কর্মী নিহত, গুম ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের তালিকা করে এবারই প্রথম তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় বিএনপি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দলের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে এসব নেতা-কর্মীর পাশে দাঁড়াতে সারা দেশের দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারেক রহমান। সম্প্রতি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের পক্ষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ঈদে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এদিকে, গত ২৯ জুন রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে গুম ও খুনের শিকার হওয়া ৪০টি পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। ইফতার শেষে তাদের হাতে ঈদ উপহার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস উপলক্ষে গত ২৬ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুম ও খুনের শিকার হওয়া ২৫টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং ৫ কেজি করে খেজুর দেওয়া হয়। রমজানে খালেদা জিয়ার জন্য সৌদি সরকারের তরফ থেকে এ খেজুর পাঠানো হয়েছে বলে দলের এক নেতা দাবি করেন।

এমই