সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করতে পারে, জনগণের ক্ষমতা খর্ব করতে পারে বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি আরও বলেন, তাই সংবিধান রক্ষায় সবাইকে সংঘবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ (২৬ এপ্রিল) শুক্রবার মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে আয়োজিত গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে ড. কামাল এইসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “যেনতেন ভাবে ব্যাখ্যা-অপব্যাখ্যা করে সরকার তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্যদের ক্ষমতাকে খর্ব যেন না করতে পারে। ক্ষমতার সীমারেখাগুলো সব সংবিধানে লেখা আছে। সরকার অপপ্রয়োগ করলে সঙ্গে সঙ্গে সংগঠিত হয়ে বলতে হবে থামেন।”

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, “সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, জনগণ দেশের মালিক। আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গঠিত সরকার জনগণের সেবক। সরকার, প্রশাসন, পুলিশের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা সংবিধানে লেখা আছে। এর কোন ব্যত্যয় হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে দেশের মালিক হিসেবে জনগণকে সতর্ক নজরদারি করতে হবে। এই কাজে প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে হবে।”

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে বিচারপতিরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। 

৮ বছর পর গণফোরামের বিশেষ এই কাউন্সিল হয়েছে। রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে দিনব্যাপী কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান কাউন্সিল সভায় কামাল হোসেনের তিন আসন পরেই বসেন।

কাউন্সিলের শুরুতেই শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দায় আফ্রিক। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদের পরিচালনায় দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এসএম আলতাফ হোসেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, রেজা কিবরিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিন, সিরাজুল হক, আওম শফিকউল্লাহ,  শফিকুর রহমান খান, ফরিদা  ইয়াছমীন, এসএম খালেকুজ্জামান, শান্তিপদ ঘোষ, মোশতাক হোসেন উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। 

এমবি