দেশে এখন সরকার বলতে কিছু নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই হত্যা, খুন, গুম বেড়েছে। তাই এই অবৈধ সরকারকে এসব হত্যা-খুনের দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। 
মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির নিখোঁজ দুই নেতার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি সরকার পতনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে এই সরকার সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই জনগনকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত র‌্যাব সদস্যদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তাদের বরখাস্ত করা উচিত ছিলো।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খুন, গুমসহ সব ঘটনার হিসাব রাখা হচ্ছে। একদিন এর জবাব দিতে হবে। এ সময় সরকারকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।  
এর আগে দীর্ঘদিন নিখোঁজ লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর পারভেজের পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।
নিখোঁজ সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী ফরিদা ইসলাম, বড় মেয়ে তাসনুভা ইসলাম, ছোট মেয়ে মাশরুফা ইসলাম, একমাত্র ছেলে বাফসানুল ইসলাম, জামাতা মহিউদ্দিন আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
নিখোঁজ হুমায়ূন কবির পারভেজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার, ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল, মেয়ে ময়মুনা জাহান ঈশিতা, জান্নাতুল মাইশা, ছোটভাই গোলাম ফারুক, শ্বশুর সৈয়দ আহমেদ মোল্লা ও ভগ্নিপতি গিয়াস উদ্দিন।
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
দুই পরিবারের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর র‌্যাব ১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মাদের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল তাদের আটক করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। 
[b]ঢাকা,এমএইচ,২৭মে (টাইমনিউজবিডি.কম)[/b]