বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তিনি ইতিহাসের সঠিক তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব পরিবারের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। আর এ জন্যই আওয়ামী লীগ তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইস্ট লন্ডনের মন্টিপুরী সেন্টারে ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার অশ্লীল বক্তব্য এবং মিথ্যা মামলার নিন্দা’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
প্রতিবাদ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এখন প্রমাণিত- মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব পরিবারের কোনো ভূমিকা ছিল না। বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাক বাহিনীর রেশন খেয়ে বাবার মতোই আরাম-আয়েশে ছিলেন। ছাড়া পাওয়ার পরও শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
এসময় তিনি তারেক রহমানের যুক্তির বিপরীতে গালাগালি বাদ দিয়ে যৌক্তিক বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন আরো বলেন, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার এখন নড়বড়ে হয়ে আছে। একটু ধাক্কা দিলেই এ সরকার বিদায় নেবে। আওয়ামী লীগ হটাতে শিগগিরই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্মসূচি দেবেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে যেখানে যেভাবে আছেন সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডা. ইকবাল মাহমুদ ফিরোজ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, একাত্তরে তো আপনাদের অনেকেরই নেতা হওয়ার এবং ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আপনারা তা গ্রহণ না করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। একাত্তরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ছিলেন পলাতক ভারতীয় দালাল এবং আর মুজিব পরিবার ছিল পাক বাহিনীর রাজকীয় অতিথি।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব পরিবারের ভূমিকা নিয়ে এ পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তার সকল তথ্য তৎকালীন ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া। এখানে তার কোনো মন্তব্য বা বাড়িয়ে কিছু বলা তথ্য নেই। কিন্তু ইতিহাসের সঠিক তথ্য যখন শেখ পরিবারের মুখোশ উন্মোচন করলো, তখন তারা তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে।
তিনি বলেন- আমরা আহ্বান জানাবো, সাহস থাকলে তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। মুক্তযুদ্ধে আপনারা কে কোথায় ছিলেন, পারলে সেসব তথ্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের সামনে যুক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। অন্যথায় গালাগালির রাজনীতি আওয়ামী লীগকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করবে।
শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস বলেন, বক্তব্যের জবাব না দিয়ে যারা গালিগালাজ করেন, তারা রাজনৈতিক বেয়াদব। বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক বেয়াদবের জন্ম হয়েছে, যারা সম্মানী লোকদের সম্মান করতে জানে না। মূলতঃ এরাই রাজনৈতিক বেয়াদব।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা দেন- যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি তইমুজ আলী, তাজুল ইসলাম, আখতার হোসেন, আহমদ আলী, গোলাম রব্বানী, দপ্তর সম্পাদক ড. মুজিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব বিপ্লব পোদ্দার, প্রমুখ।
জেএ





