ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রীসভা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যলয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
হানিফ বলেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত দু:খজনক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ ধরনের বক্তব্যকে কখনো সমর্থন করেন না। এই বক্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতে গতকাল মেক্সিকোতে বাংলাদেশকে একটি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে সেই পুরস্কার আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রহন করার কথা ছিল।
তবে তাকে মন্ত্রী সভা থেকে অব্যহতি দেয়ার কারণে সেই পুরস্কার ঐ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক গ্রহন করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বাদ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তবে দল থেকে বাদ দেয়া হবে কিনা প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে দলীয় ওয়ারকিং মিটিংয়ে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নিয়ে মাঠে নামতে চেয়ছিলেন বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে বিএনপির সে আশায় গুঁড়েবালি।
গতকাল মঙ্গলবার লণ্ডনে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে “পাকবন্ধু” বলে যে মন্তব্যে করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য লণ্ডনে বসে তারেক রহমান মিথ্যাচার করছেন।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার দূর্ণীতির বরপুত্র তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তাই তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান হানিফ। পাশাপাশি দেশবাসীকে তার এ বক্তব্যকে প্রত্যাখান করে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।
এমআর/এসএইচ





