নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো কিছু সংবিধানে নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পৃথিবীর সব দেশে যখন নির্বাচন হয় তখন বর্তমান সরকার দায়িত্বে থাকে। আর নির্বাচন কমিশন বাকি দায়িত্ব পালন করে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের বলেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী এটা (পদত্যাগপত্র) গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে, তারপর ফাইনালি তাদের পদত্যাগ হয়ে যাবে। তবে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে মন্ত্রী আর কমার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনটা অতটা সহজ হবে বলে যেন কেউ মনে না করে। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল মনে করি না।
আগামী আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কাছে মাঠ পর্যায়ের বিস্তারিত সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে সব দলের বিষয়ে। সেখানে সব ধরনের প্রতিবেদন আছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। এ সার্ভে রিপোর্ট থেকে নির্বাচনে আমরা বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পেছানোর দাবি একেবারেই অযৌক্তিক। তারা নির্বাচন বানচালেই এ দাবি করেছেন। আমাদের মতো বড় দল না চাইলে কীভাবে নির্বাচন পেছাবে? আরও দল আছে তারা তো চায়নি।
বুধবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে কাদের বলেন, কাল আন্দোলনের নামে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি। তারা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েয়ে। ভিডিও ফুটেজ আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন। তারা পুলিশের গাড়িতে উঠে শেখ হাসিনার পতন চেয়েছে। এটা কেন? তারা আসলে নির্বাচনে যেতে চান না, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চান।
এ ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে আপনাদের ভাবতে হবে এর জন্য কে দায়ী? যোগ করেন কাদের।
আপনারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমরা তো নির্দেশ দিতে পারি না। এখন এটা নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলতে পারে তদন্ত করার জন্য। আমরা দেখছি, নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
কাদের বলেন, নির্বাচন বিনষ্টের যে অশুভ তৎপরতা তা কাল প্রমাণ করেছে বিএনপি। তারা যদি নির্বাচন চান তাহলে তাদের এ অসুভ তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
এবার কোনো অসুভ শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। জনগণ সতর্ক পাহারায় রয়েছে। এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা চালালে জনগণ তা প্রতিহত করবে, সাংবাদিকদের বলেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি ঐক্যফ্রন্টকে প্রশ্ন করতে চাই, ‘হু ইজ দেয়ার পিএম ফেইজ’ এটা আমি জানতে চাই। এটা দেশবাসীও জানতে চায়। তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবে? ড. কামাল নাকি তারেক রহমান?
খালেদার মুক্তি বিষয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বেগম জিয়ার বিষয়ে আমি সবিনয়ে বলব, এটা আদালতের বিষয়।





