করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন ডাক্তারসহ দেশে-বিদেশে যারা ইন্তিকাল করেছেন তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণীতে জামায়াতের আমির বলেন, “বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এ পর্যন্ত ৪২ জন ডাক্তার ও ৭ জন স্বাস্থ্য কর্মী ইন্তিকাল করেছেন। দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশে ১৩৪৩ জন মানুষ ইন্তিকাল করেছেন। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী ও দেশে-বিদেশে যারা ইন্তিকাল করেছেন আমি তাদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৭৪ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ডাক্তার ১ হাজার ৩৫ জন, নার্স ৮৮৫ জন ও টেকনোলজিস্ট ১ হাজার ৩৫৪ জন। প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের এ সংখ্যায় দেশের জনগণ চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। ল্যাবে নমুনার স্তুপ জমা হয়ে আছে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৬০টি ল্যাবে চলছে করোনা ভাইরাস শনাক্ত টেষ্ট। কীটের সংকটে কোনো কোনো ল্যাবে টেষ্ট বন্ধ আছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে মানুষ। চিকিৎসা না পেয়ে অনেকে বাসায় ফিরে যাচ্ছে। অনেকে রাস্তায়ই ইন্তিকাল করছে। চিকিৎসার এ ভয়াবহ সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “করোনার প্রভাবে মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। চলছে কাজ ও খাদ্যের সংকট। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, করোনার এই দুঃসময়েও সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে দুর্নীতির কারণে ১১১ জন জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত হয়েছে। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এক কথায় করেনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছেন।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “আমরা মনে করি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শক্তি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োজিত করা দরকার। জনগণের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এদিকে, লক্ষ্মীপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রী হিরামনিকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ প্রদান করেছেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, “লক্ষ্মীপুর সদরের হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী হিরামনিকে গত ১১ জুন পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। করোনার এই দুঃসময়েও দেশব্যাপী নারীদের প্রতি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ১৭ জুন প্রদত্ত এক পরিসংখ্যাণে দেখা যায় গত ৩ মাসে দেশে ৪৮০ জন নারী-শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৭ জন মহিলা ও ২১৩ জন শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯০ জন মহিলা ও ১১৩ শিশু।”
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দিন দিন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এ সকল অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না।”
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, “লক্ষ্মীপুরে হিরামনি হত্যার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





