আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দু’টি পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। একটা হচ্ছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করবে। আর পয়সা দিয়ে কিনে ফেলবে।

গতকাল (২০ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পুলিশের ৮৮ জন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময়ে শেখ হাসিনা এই কথা বলেন। এর আগে সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হকের নেতৃত্বে অবসরে যাওয়া এইসব শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপি’কে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন,  “তাদের দুইটা পরিকল্পনা, একটা হচ্ছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করবে। আর পয়সা দিয়ে কিনে ফেলবে। লন্ডন থেকে এক ক্রিমিনাল এসব করছে।”

তিনি বলেন, “তবে আমার আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা এগুলো মোকাবেলা করতে পারব। বাংলাদেশ পুলিশ এগুলো মোকাবেলা করতে পারবে। কারণ, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মার সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তারা কিন্তু আমার সরকারের দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। এই সেতু এখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করছি। আর এই এক সিদ্ধান্তের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে সমীহ করে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেটেও সমীহ জাগিয়েছে। এখন অনেক দেশ রয়েছে, যারা আমাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে ভয় পাই।”

এরপরই শেখ হাসিনা এই ‘সমীহ জাগানিয়া’অবস্থা ধরে রাখা এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সমর্থন জানানোয় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় ঐক্যফ্রেন্টর প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সমালেচনা করে তিনি বলেন, “তার (কামাল হোসেন) এখন বয়স হয়েছে। মতিভ্রম হয়ে থাকতে পারে। এজন্য উল্টাপাল্টা বকছেন। তিনি স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের গোছা হাতে মাঠে নেমেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সরকার গঠন করতে চাইছেন।”

বর্তমান সরকার ও নৌকাকে সমর্থন করা পুলিশের সাবেক এসব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “এসব অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। আপনারা এই কাজে এগিয়ে এসেছেন, আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আপনারা দোয়া করবেন যেন, এবারও নৌকা বিজয়ী হয় এবং আমরাই সরকার গঠন করতে পারি।”

অনুষ্ঠানে সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হক ছাড়াও কয়েক সাবেক আইজিপি বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা এবং আসন্ন নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

এদিন গণভবনে যাওয়া সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক আইজিপি ১৫ জন, অতিরিক্ত আইজিপি ১৯ জন, ডিআইজি ২৪ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ৩ জন, এআইজি/পুলিশ সুপার ১১ জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১৫ জন এবং পিএসপি অফিসার একজন।

এমবি