বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টকে ভিত্তিহীন মিথ্যা আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বিগত মে মাসের ২৫ অথবা ২৬ তারিখ সৌদি আরবের জেদ্দায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং তার একজন এজেন্টের সাথে আমার তথাকথিত বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে আমি সুস্পষ্টভাবে তার প্রতিবাদ করছি।
তিনি বলেন, রিপোর্টে বর্ণিত গোয়েন্দা সংস্থা এবং তার এজেন্টের সাথে বৈঠক হওয়া তো দূরের কথা জেদ্দার কোথাও মেহমুদ নামের কোন ব্যক্তির সাথে আমার কোন ধরনের সাক্ষাতই হয়নি। কাজেই রিপোর্টে বর্ণিত আলাপ-আলোচনা একেবারেই অসত্য। তার প্রমাণ হল, রিপোর্টে বর্ণিত এ বছর অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ার অনুরোধ এবং তা বাস্তবায়নের যে কথা লেখা হয়েছে- তা একেবারেই অসত্য। এ ব্যাপারে প্রকৃত সত্য হল, সিলেট এবং বাংলাদেশের জনগণ সাক্ষী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। অথচ বর্ণিত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আইএসআই-এর এজেন্টের অনুরোধে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ থেকেই দেশবাসীর নিকট সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এ রিপোর্টের সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী এবং আমার ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার হীন উদ্দেশ্যেই এ রিপোর্টটি ছাপা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ব্যাপারে যাবতীয় সিদ্ধান্ত সংগঠনের যথার্থ ফোরামে বসেই গ্রহণ করে থাকে। বাইরের কোন দেশের কিংবা কোন সংস্থার পরামর্শে বা নির্দেশনায় জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করে না। বাইরের কোন দেশ কিংবা সংস্থার পরামর্শ বা নির্দেশনায় রাজনীতি করাকে জামায়াতে ইসলামী অপরাধ হিসেবেই গন্য করে থাকে। তাই এ রিপোর্টের স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের রিপোর্ট ছাপা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
গ্রেফতারের প্রতিবাদ: জামায়াতে ইসলামীর নাটোর জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক বেলালুজ্জামানকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে সাদা পোষাকধারী ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করা এবং পাবনা জেলা শাখা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী শামছিয়ারাসহ ৬জন নেত্রী ও কর্মীকে পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, নাটোর জেলা শাখা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলালুজ্জামানকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে সাদা পোষাকধারী ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করা এবং পাবনা জেলা শাখা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী শামছিয়ারাসহ ৬জন নেত্রী ও কর্মীকে পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার দ্বারা আবারো প্রমাণিত হচ্ছে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। নাটোর জেলা শাখা জামায়াতের আমীরকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে আহত করা এবং পাবনায় জামায়াতের নেতা নেত্রীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নাটোর জেলা শাখা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলালুজ্জামানকে ২০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় সিংডা উপজেলার শেরকোল গ্রামে অবস্থিত তার বাসা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে সাদা পোষাকধারী ব্যক্তিরা সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়ে বড়োবাড়িয়া নামক বিলের মধ্যে নির্জন এলাকাতে নিয়ে তাকে লোহার রড ও হাতুরি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে তার বাম পায়ের ও ডান পায়ের নীচের হাড় ভেঙ্গে ফেলে রেখে চলে যায়। প্রচন্ড রক্তক্ষরনের কারণে আশংকাজনক অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
পাবনা জেলা শাখা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী শামছিয়ারাসহ ৬ জন নেত্রী ও কর্মী ১৯ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে ভোটারদের সাথে জনসংযোগের জন্য বের হলে ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পর পুলিশ ২০ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে সোপর্দ করে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামীসহ কোন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীকে নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য মাঠে নামতে দিচ্ছে না। এই সব ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ফ্যাসিবাদী সরকার ও তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না। তারা নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন সরকারের সহযোগীর ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যালট ডাকাতির নির্বাচনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
ঢাক-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রচার মিছিল: ঢাকা -১৫ আসনে প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি পুলিশের অভিযান, প্রচার কার্যক্রমে হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর, গ্রেফতার এবং আ.লীগ প্রার্থী ও তার কর্মীদের পক্ষ থেকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, পোষ্টার-ব্যানার লাগাতে না দেয়াসহ বৈরি পরিবেশকে উপেক্ষা করে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান ও তার কর্মী-সমর্থকরা ওয়ার্ড, কেন্দ্রভিত্তিক নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়, পথসভা, প্রচার মিছিল এবং গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে।
ইতোমধ্যে ডা. শফিক বিভিন্ন ক্লাব-সমিতি, ডাক্তার, আইনজীবি, আলেম-ওলামা, শ্রমিক, ছাত্র, ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ে ভূমিকা রেখে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকারের নেতৃত্বে সংসদীয় আসনের মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া থেকে শুরু করে ইষ্টওয়েষ্ট স্কুল এলাকা, সিটি বাজার, পীরেরবাগ, শামীম স্মরণী ও ওলিমিয়ারটেক পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল এবং পথসভা করেন । এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবী, থানা ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ইউসুফ আলী মোল্লা, কামাল হোসেন, শ্রমিক নেতা সুলতান মাহমুদ,আক্তার হোসেন, ছাত্রনেতা যুবায়ের হোসেন প্রমুখ।
এমবি





