গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়ে দেশে এখন জঙ্গি শাসন চলছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তাই বিচারকরা দলীয় সিদ্ধান্তে অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে। আর এ কারণে খুণ-হত্যা করেও আওয়ামী লীগের গুণ্ডাপান্ডা ও খুনের আসামিরা জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের কালশি ট্রাজেডির হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিহারি পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আ’লীগ সন্ত্রাসীরা মিরপুরে বিহারী পল্লীতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে। এতে প্রমানিত হয় যে, অতিতে যারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে ও গাড়ি পুড়িয়েছে-তা আ’লীগেরই কাজ। এটা জাতির কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, মিরপুরের ঘটনা ঘটিয়েছে আ’লীগ ও পুলিশ মিলে আর মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে যারা নির্যাতিত হয়েছে তাদেরই। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরাধ করে তারা আর মামলা দেয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের নামে, এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র।
এসময় বিহারি ক্যাম্পের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদেরকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
এদের মধ্যে নিহত ৯জনের পরিবারের অভিভাবক ইয়াছিন মিয়াকে ২ লাখ, মো. আজহারের পরিবারকে ১ লাখ এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের একত্রে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রাজধানীর পল্লবীর কালশিতে আতশবাজিকে কেন্দ্র করে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পের (বিহারি ক্যাম্পে) বাসিন্দাদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিহারি ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একই পরিবারের সাতজনসহ ৯ জন নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিতে মারা যান আরো একজন।
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, এমএইচ ১৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//কেএ





